দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি, কুষ্টিয়াঃ
১৩ জুন, ২০২৬ ১১:২১ পিএম
শেয়ার করুন:
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন এক রোগী। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগকারী মো. কাউসার (পিতা: মহরম মণ্ডল) জানান, শনিবার সকালে মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে তিনি দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. মিজান তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মাথার ক্ষতস্থানে সেলাই করার সিদ্ধান্ত নেন।

কাউসারের দাবি, সেলাইটি সঠিকভাবে করা হয়নি। পাশাপাশি চিকিৎসা শেষে তার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে তাকে দ্রুত বাড়ি চলে যেতে বলা হয় এবং ওষুধ সেবন করলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে জানানো হয়।

ভুক্তভোগী কাউসার বলেন, “মাথায় আঘাত পাওয়ার পর হাসপাতালে গেলে ডা. মিজান আমাকে দেখেন। পরে সেলাই করা হলেও সেটি ঠিকমতো করা হয়নি। চিকিৎসার নামে আমার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মো. মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায় বাইরের একজন ব্যক্তিকে দিয়ে সেলাই করানো হয়েছে। রোগীর কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ওই ব্যক্তিকেই দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কি সেলাইয়ের মতো সাধারণ চিকিৎসাসেবার জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হবে? আর যদি সেলাইকারী ব্যক্তি হাসপাতালের কর্মচারী না হন, তাহলে কীভাবে তাকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত করা হলো?

এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার না হন।

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।