ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের ঘটনায় জড়িত কোনো পুলিশ সদস্যকে ছাড় দেওয়া হবে না: সিএমপি কমিশনার

অনলাইন ডেস্কঃ
১৩ জুন, ২০২৬ ৩:৪৬ পিএম
শেয়ার করুন:
ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের ঘটনায় জড়িত কোনো পুলিশ সদস্যকে ছাড় দেওয়া হবে না: সিএমপি কমিশনার

জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য নাঈম হাসানকে মারধর ও থানায় নিয়ে হেনস্তা করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। একই সঙ্গে এই অপ্রীতিকর ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায় ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বাসায় যান সিএমপি কমিশনার। সেখানে তিনি নাঈম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিএমপি কমিশনার বলেন, "আমি নিজে নাঈমের কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শুনেছি। গতকাল রাতেই বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। পুলিশ বাহিনীর যে সকল সদস্য এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

কী ঘটেছিল শুক্রবার রাতে?
ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসানের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে লালখান বাজার মোড় এলাকায় পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি থামায়। এরপর কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ সদস্যরা তাঁর গলা চেপে ধরে অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় লোকজন নাঈমের জাতীয় দলের ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও পুলিশ সদস্যরা তা আমলে নেননি। উল্টো তাঁকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

খবর পেয়ে গভীর রাতে থানায় যান নাঈম হাসানের বাবা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুব আলমসহ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নাঈমের অভিযোগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের ফোন আসার আগপর্যন্ত থানার ভেতরেও তাঁর সাথে চরম অপেশাদার ও দুর্ব্যবহারমূলক আচরণ করা হয়।

তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
জাতীয় দলের এই ক্রিকেটারের সঙ্গে অসদাচরণ ও অপেশাদার আচরণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় খুলশী থানার দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন— খুলশী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া এবং কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। 

পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সিএমপির পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।