ই-হেলথ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

অনলাইন ডেস্কঃ
Mar 4, 2026 - 19:06
ই-হেলথ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দ্রুত ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে দেশের পরিত্যক্ত সরকারি ভবনগুলোকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তর এবং বৃক্ষরোপণ অভিযান জোরদার করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য করতে ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ দ্রুত শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন। বৈঠকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত ভবনগুলো চিহ্নিত করে সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে জানানো হয়, শুধুমাত্র এলজিইডি-র ১৭০টি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, এসব ভবন মেরামত করে সেগুলোকে ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বৈঠকে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশে প্রায় ৩৪ লাখ নবজাতকের জন্ম হয়। এই হার নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়কে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৮০ শতাংশ নারী ও ২০ শতাংশ পুরুষ অনুপাতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান ৭৪ হাজার শূন্যপদে দ্রুত চিকিৎসক ও কর্মী নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। একইসঙ্গে চিকিৎসকরা যাতে দুর্গম এলাকায় গিয়ে সেবা প্রদান করেন, তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রীকে কড়া নির্দেশনা দেন তিনি।

উক্ত সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত সেল’-এর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি নার্সারির পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায় থেকেও চারা সংগ্রহ করতে হবে। খাস জমি, নদীর দুই পাড়, সড়ক ও মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী স্থান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হবে। বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ রোপণ ও সেটির পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সভায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

দিনের শুরুতে আনসার ও ভিডিপি-র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আনসার বাহিনীকে আরও সক্রিয় রাখার আহ্বান জানান।


What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow