এআই ক্যামেরার ভয়ে ফাঁকা রাস্তাতেও সিগন্যাল মানছেন চালকেরা
রাজধানীর চিরচেনা যানজট আর বিশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থায় আশার আলো দেখাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা 'এআই' (AI) প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ক্যামেরা স্থাপনের পর থেকেই সড়কে ফিরতে শুরু করেছে শৃঙ্খলা। ডিজিটাল এই কড়াকড়ির প্রভাবে এখন গভীর রাতে বা ফাঁকা রাস্তাতেও চালকদের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে দেখা যাচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে এই আধুনিক ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে, অন্যদিকে সাধারণ পথচারীরাও স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হচ্ছে মামলা
নতুন এই পদ্ধতিতে ট্রাফিক পুলিশ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হচ্ছে অপরাধ। সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, হেলমেট না পরা কিংবা সিটবেল্ট না বাঁধার মতো নিয়মভঙ্গ করলেই এআই ক্যামেরা মুহূর্তের মধ্যে গাড়ির নম্বর শনাক্ত করে মামলা রেকর্ড করছে। গত এক সপ্তাহেই রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে নিয়ম ভাঙার দায়ে তিন শতাধিক মামলা হয়েছে।
ডিএমপির কঠোর নির্দেশনা
এআই ক্যামেরার কার্যক্রমকে আরও নির্ভুল করতে প্রতিটি যানবাহনে সঠিক স্থানে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট এবং আরএফআইডি (RFID) ট্যাগ লাগানোর জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। এই ট্যাগ বা নম্বর প্লেট না থাকলে অপরাধী শনাক্ত করা কঠিন হয়, তাই এ বিষয়ে কোনো ছাড় দিচ্ছে না প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞদের মত
ট্রাফিক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর হবে এবং সড়কে দুর্ঘটনার হার অনেক কমে আসবে। তবে বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য বিআরটিএ-র (BRTA) তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই সঙ্গে শহরের অলিগলিতে চলাচলকারী অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করাও এআই সিস্টেমের সফলতার জন্য জরুরি বলে মনে করেন তারা।
রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও এআই ক্যামেরার কার্যকারিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রযুক্তির এমন ব্যবহারের ফলে মানুষ এখন শাস্তির ভয়ে হলেও নিয়ম মানতে অভ্যস্ত হচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ