উদ্ধারের পর ধর্ষণ মামলায় শিবির নেতা জিসান গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্কঃ
১৩ জুন, ২০২৬ ৫:১২ পিএম
শেয়ার করুন:
উদ্ধারের পর ধর্ষণ মামলায় শিবির নেতা জিসান গ্রেপ্তার

বিয়ের ঠিক আগের দিন ‘নিখোঁজ’ হওয়ার নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা হলো না বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান আহম্মেদ প্রধানের। পুলিশ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর, এক বিধবা নারীর দায়ের করা ধর্ষণ ও পরিকল্পিত গর্ভপাতের মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৩ জুন) কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত জিসান আহম্মেদ প্রধান ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

প্রেমের সম্পর্ক ও ধর্ষণের অভিযোগ:
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫-৬ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ওই বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পুলিশ জানায়, গত ২০ মে দাউদকান্দি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীকে প্রথম ধর্ষণ করেন জিসান। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সম্পর্কের কারণে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই জিসান তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জীবনের ভয়ে রাজি হলে জিসান তার বন্ধু সেকান্দার আলীর দোকান থেকে ওষুধ কিনে ওই নারীকে খাওয়ান। এতে তার তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হলে জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে আবারও ওষুধ পাঠান। 

বিয়ে এড়াতে ‘নিখোঁজ’ নাটক:
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভুক্তভোগী নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। নিরুপায় হয়ে জিসান বিয়েতে রাজি হন এবং ১২ জুন (শুক্রবার) বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বিয়ে এড়ানোর কৌশল হিসেবে বিয়ের আগের দিন ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টার দিকে জিসান নিজেই আত্মগোপনে চলে যান। 

এদিকে জিসানের সন্ধান না পেয়ে ১২ জুন (শুক্রবার) সকালে তার চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ রাফি দাউদকান্দি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে দাবি করা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ পড়ার পর থেকে জিসানের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল।

উদ্ধার ও জিসানের দাবি:
জিডি করার পর শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা। তাকে প্রথমে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসান দাবি করেন, "আমি মডেল মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় একটি গাড়ি এসে থামে এবং কয়েকজন আমাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর কী ঘটেছে আমি আর মনে করতে পারছি না।"

আইনি ব্যবস্থা:
জিসানের এই অপহরণের দাবির মধ্যেই নতুন মোড় নেয় পুরো ঘটনা। শুক্রবার মধ্যরাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি থানায় জিসান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে জিসানের আত্মগোপনের নাটক উন্মোচন করে এবং ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায়।

দাউদকান্দি থানার ওসি মো. আব্দুল বারী জানান, "ধর্ষণ ও গর্ভপাতের মামলায় অভিযুক্ত জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।