হুমকির মুখে দেশ ছাড়লেন ‘নবীন পাঞ্জাবি’র এমডি নবীন হাশেমি
মাত্র ৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি ও পায়জামা বিক্রি করে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা প্রতিষ্ঠান ‘নবীন পাঞ্জাবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নবীন হাশেমি দেশ ছেড়েছেন। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ক্রমাগত হুমকি ও চরম নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান তিনি।
দেশ ছাড়ার আগে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। পরে দেশ ছাড়ার মুহূর্তে বিমানবন্দর থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ছবি পোস্ট করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
আবেগঘন ওই ফেসবুক পোস্টে নবীন হাশেমি লেখেন, “সিংহের মতো বাঁচতে চাই, কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন ফিরব—ইনশা আল্লাহ।”
এর আগে মগবাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নবীন হাশেমি অভিযোগ করেন, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত কম দামে সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত পোশাক তুলে দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে আশপাশের ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, ওই মার্কেটে সাড়ে ৪ হাজার টাকার নিচে পাঞ্জাবি এবং দেড় হাজার টাকার নিচে পায়জামা বিক্রি না করার একটি অলিখিত নিয়ম চালু করে রেখেছে সিন্ডিকেটটি।
এর বিপরীতে মাত্র ৩০০ টাকায় পোশাক দেওয়ায় ‘প্রিন্স’ নামের একটি দোকানের মালিক মাইকেলসহ সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের দোকানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মব (বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা পুলিশ নিয়ে এসে জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করে দেয় এবং ক্রেতাদের হয়রানি করে।
নবীন আরও জানান, গত কয়েক দিন ধরে অজ্ঞাত বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে ফোন করে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। হুমকিদাতারা তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ব্যবসা-সংক্রান্ত সকল ভিডিও মুছে ফেলতে নির্দেশ দেয়। অন্যথায় তার অন্যান্য ব্যবসাও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে বিষয়টি হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুর্তজাকে জানানো হয়। কিন্তু তিনি কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো নবীন হাশেমিকে সিন্ডিকেটের সঙ্গে ‘সমঝোতায়’ যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ওসি গোলাম মুর্তজার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে করোনা মহামারির সময় দেশে ফিরে এই ব্যবসায়ের উদ্যোগ নেন নবীন হাশেমি। সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সরাসরি কম দামে পণ্য সংগ্রহ করে তা স্বল্প মূল্যে সাধারণ ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তার প্রতিষ্ঠানের আয়ের একটি বড় অংশ দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে শারীরিক প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ (হিজড়া) এবং মাদকাসক্তি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিরা কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সরকারের কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করে নবীন হাশেমি বলেন, "নানা বাধা ও চাপের মুখে আমরা ব্যবসা পরিচালনা করছিলাম। সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে আজ উল্টো ভয়ভীতির শিকার হতে হচ্ছে, অথচ সরকারের তরফ থেকে আমরা ন্যূনতম কোনো সহযোগিতা পাইনি।"
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ