১৬ সংস্থা থাকলেও নৌ-খাতে সমন্বয়হীনতা ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে: নৌপরিবহন মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
May 10, 2026 - 17:02
১৬ সংস্থা থাকলেও নৌ-খাতে সমন্বয়হীনতা ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে: নৌপরিবহন মন্ত্রী

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব দপ্তর ও সংস্থা সচল থাকা সত্ত্বেও এ খাতে ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কেবল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনেই ১৬টি সংস্থা কাজ করছে, তবুও শ্রমিক, মালিক ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এখনো কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ও ঐক্যের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর ঢাকা লেডিস ক্লাবে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত 'নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমন্বিত দায়িত্ববোধের আহ্বান
মন্ত্রী বলেন, "নৌ ব্যবস্থাপনায় যে অপূর্ণতা রয়েছে, তার দায় এককভাবে কারও নয়, বরং আমাদের সবার। রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে মালিক, শ্রমিক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। শ্রমিকরা দেশ গড়ার কারিগর, তাদের অসন্তোষ দূর করে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।"

নৌপথের বিশাল সম্ভাবনা
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক আশীর্বাদ হিসেবে ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথের কথা উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, "আমাদের অর্থনীতি অনেকাংশে শ্রমনির্ভর। বিশেষ করে পোশাক শিল্প ও প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরের শ্রমজীবী মানুষেরা রাষ্ট্র গঠনে নিরলস কাজ করছেন। বর্তমানে আমরা সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখতে পেরেছি। আরও ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারে ড্রেজিং চলছে এবং অতিরিক্ত সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল করার সুযোগ রয়েছে। তবে এই সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে নৌযান ব্যবস্থাপনায় জরাজীর্ণতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে হবে।"

নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহের তাৎপর্য
পবিত্র রমজান মাসের আত্মশুদ্ধির উদাহরণের টেনে মন্ত্রী বলেন, নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহের মতো আয়োজনগুলো আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করিয়ে দেয়। কর্মব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে অনেক সময় আমরা দায়িত্ব বিচ্যুত হই, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং এ লক্ষ্যে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সব বিচ্যুতি চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ঈদ প্রস্তুতি
সদরঘাটের আধুনিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মেধা, শ্রম ও ত্যাগের সমন্বয় ঘটাতে পারলে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যেই দেশের নৌ-খাতের চিত্র আমূল বদলে যাবে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, "বিগত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও জোরালো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, বরং জনগণের সার্বজনীন স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকার দ্বিধা করবে না।"

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান ও নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow