সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতি: জামায়াত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি তরুণ নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, বর্তমান সরকারের দুর্বল ও নমনীয় পররাষ্ট্রনীতির সুযোগ নিয়েই ভারত সীমান্তে ধারাবাহিকভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
রোববার (১০ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত শুক্রবার (৮ মে) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুরসালিন ও মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন নিহত হন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ প্রায়ই বিনা উসকানিতে নিরীহ বাংলাদেশিদের ওপর গুলি চালাচ্ছে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়ে ভারত বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই; বরং হত্যাকাণ্ডের হার ক্রমাগত বাড়ছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "সীমান্তে বারবার বাংলাদেশি হত্যার শিকার হলেও বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা জোরালো প্রতিবাদ দেখা যায় না। সরকারের এই দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণেই ভারত বারবার সীমান্তে রক্ত ঝরানোর সাহস পাচ্ছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক।"
জামায়াত নেতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সবসময়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করে। তিনি ভারত সরকারকে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত হত্যা বন্ধের আহ্বান জানান এবং মুরসালিন ও নবীর হোসেনসহ এ পর্যন্ত সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
একইসঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ