ট্রাম্প আমাদের সঙ্গে নয়, নিজের সঙ্গেই আলোচনা করছেন: ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনার যে দাবি ট্রাম্প করেছেন, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়ে ইরানি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন—যুক্তরাষ্ট্র আসলে নিজেদের সঙ্গেই আলোচনা করছে, ইরানের সঙ্গে নয়।
এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানে তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তেহরানের এই কড়া প্রতিক্রিয়ার কথা প্রকাশ্যে আনে।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতামুল আম্বিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি মার্কিন নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে বলেন, "আপনাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আপনারা নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছেন?"
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমাদের মতো মানুষ কখনোই আপনাদের মতো মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পারে না। ওয়াশিংটন যতক্ষণ পর্যন্ত এ কথা স্বীকার না করবে যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা একমাত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীই নিশ্চিত করবে; ততক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ এবং যুদ্ধ-পূর্ববর্তী জ্বালানির মূল্য কখনোই ফিরে আসবে না।"
এদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ অবসানে চুক্তির ক্ষেত্রে ইরান পাঁচটি কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির জন্য ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি শর্তনামা পাঠিয়েছে।
চ্যানেল-১২-এর খবর অনুযায়ী, সংঘাত অবসানে ইরানের দাবিগুলো অত্যন্ত কঠোর। পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তারা এমন দৃঢ় নিশ্চয়তা চান, যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে আর কোনো যুদ্ধ শুরু না হয়। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন একটি ব্যবস্থা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন, যা কার্যত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই নৌপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে তুলে দেবে।
পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা এবং যুদ্ধে হওয়া বিশাল ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে ইরান।
সোমবার টেনেসিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং "এবার তারা (ইরান) বেশ সিরিয়াস।"
মার্কিন সামরিক বাহিনীর "অসাধারণ পারফরম্যান্সের" কারণেই এই আলোচনা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, "আমরা আশা করছি একটি চুক্তি হবে। তবে শেষ পর্যন্ত যা-ই ঘটুক না কেন, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা আমরা নিশ্চিত করব।"
সবশেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমেরিকা ও আমাদের মিত্রদের প্রতি হুমকি বন্ধ করার জন্য ইরানের সামনে এখন আরেকটি সুযোগ এসেছে। আমরা আশা করি তারা সুযোগটি কাজে লাগাবে। তবে যা-ই হোক না কেন, আমেরিকা ও পুরো বিশ্ব এখন আগের চেয়ে আরও নিরাপদ এবং স্থিতিশীল হবে।"
What's Your Reaction?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ