মধ্যরাত থেকে ইসরায়েলে ৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে পড়েছে ইরান। গত কয়েক দিন ধরে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে অবিরাম হামলা চালানো হচ্ছে। পাল্টা জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এছাড়া ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, দেশটির বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ আলি-আসগর হেজাজি নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে পবিত্র শহর কোমে যৌথ হামলায় অন্তত দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নাতাঞ্জ শহরের কাছেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, চলমান অভিযানের এই এক সপ্তাহে ইরানে ৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্যমতে, অভিযানে ইরানের অন্তত ৪৩টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে দমে নেই ইরান। পাল্টা জবাব হিসেবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’ (THAAD) রাডার সিস্টেম ধ্বংস করেছে। এছাড়া কাতারে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর এফপিএস-১৩২ (FPS-132) রাডার স্টেশনটিও গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তেহরান।
শুক্রবার আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’-এর ২৩তম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে তারা। এই অভিযানে তেল আবিব, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং হাইফার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘খোররামশার-৪’ মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সারাদিন সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, ইরাকের বসরা শহরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন বিদেশি তেল কোম্পানির কর্মীদের আবাসস্থল লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই সংঘাতের ফলে জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
What's Your Reaction?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ