সাবেক আইজিপি বেনজীরের দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

অনলাইন ডেস্কঃ
May 13, 2026 - 16:35
সাবেক আইজিপি বেনজীরের দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বুধবার (১৩ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হয়।

আদালতের কার্যক্রম  
মামলার প্রথম দিনে সাক্ষ্য দেন বাদী পক্ষ তথা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম। তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ২০ মে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৩ মে একই আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর চূড়ান্ত আদেশ দেন।

মামলার প্রেক্ষাপট  
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়। চলতি বছরের ৮ মার্চ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য  
তদন্ত প্রতিবেদনে বেনজীর আহমেদের ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের বিশাল অসংগতি পাওয়া গেছে। 
ঘোষিত সম্পদ: বেনজীর আহমেদ তাঁর দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। 
তদন্তে প্রাপ্ত সম্পদ: দুদকের তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়। অর্থাৎ, তাঁর মোট প্রমাণিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
অবৈধ আয়: সব মিলিয়ে বেনজীর আহমেদের ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ বৈধ আয়ের উৎসের বাইরে অর্থাৎ অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগের ধরণ  
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তাঁর অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। এসব অর্থ তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যক্তিগত ও যৌথ মূলধনী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, রূপান্তর এবং স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করেছেন বলে সাক্ষ্য-প্রমাণ মিলেছে।

আইনজীবীদের ধারণা, উচ্চপদস্থ এই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই বিচারিক প্রক্রিয়া দেশের দুর্নীতি দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow