কাজ না করেই ২ বছর ধরে বেতন তুলছেন রাণীনগরের একাডেমিক সুপারভাইজার

আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:৫১ পিএম
শেয়ার করুন:
কাজ না করেই ২ বছর ধরে বেতন তুলছেন রাণীনগরের একাডেমিক সুপারভাইজার

দাপ্তরিক কোনো কাজ না করেই নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। বিগত প্রায় দুই বছর ধরে তিনি শুধুমাত্র কাগজে-কলমে এই পদের দায়িত্ব ধরে রেখে নিয়মিত বেতন তুলছেন। অথচ বাস্তবে তিনি কর্মরত আছেন অন্য জেলায়। গুরুত্বপূর্ণ এই পদটিতে কর্মকর্তা না থাকায় উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম ও দাপ্তরিক কাজে চরম স্থবিরতা ও জটিলতা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, কামরুল হাসান ২০১৫ সালের ১৫ মে রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর চাকরি করার পর ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর কোনো এক অজানা কারণে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত হতে শুরু করেন। পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিলের এক অফিস আদেশে তাকে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করা হয়। একই বছরের ২৭ অক্টোবর অপর এক আদেশে তাকে সেখান থেকে বদলি করে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, গত দুই বছর ধরে টাঙ্গাইল জেলায় দায়িত্ব পালন করলেও কামরুল হাসান রাণীনগর উপজেলার পদটি দখল করে রেখেছেন এবং এখান থেকেই নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। এই পদটি শূন্য না হওয়ায় নিয়মানুযায়ী এখানে নতুন কোনো কর্মকর্তাকে নিয়োগ বা পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, তদারকি ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ সার্বিক একাডেমিক তদারকি কার্যক্রম একপ্রকার ভেঙে পড়েছে। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ফারুক আহমেদ মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের অফিসে বর্তমানে স্থায়ী কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদটিও শূন্য। আর একাডেমিক সুপারভাইজারের পদটি কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তিনি এখানে নেই। এর ফলে আমাদের দাপ্তরিক কাজে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে, এমনকি নিয়মিত বেতন তুলতেও কয়েকদিন লেগে যায়। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান আশা করছি।"

এই বিষয়ে জানতে চাইলে একাডেমিক সুপারভাইজার কামরুল হাসান মুঠোফোনে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে রাণীনগর উপজেলা থেকে বেতন উত্তোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "নিয়ম আছে বলেই আমি বেতন তুলছি।" রাণীনগর উপজেলার দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন এবং একটি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান জানান, উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, তদারকি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মনিটরিংসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে একজন একাডেমিক সুপারভাইজার প্রয়োজন। এজন্য সংশ্লিষ্ট পদের কার্যক্রম সচল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।