রাণীনগরে চরমপন্থীদের পুনর্বাসন প্রকল্প এখন ‘ভূতের বাড়ি’: লুট হয়েছে কোটি টাকার সম্পদ
নওগাঁর রাণীনগরে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর লুট হয়ে গেছে খামারের শতাধিক গরুসহ কোটি টাকার সম্পদ। পরিত্যক্ত এসব ভবন এখন পরিণত হয়েছে ‘ভূতের বাড়ি’তে, যেখানে সন্ধ্যার পর বসে মাদকের আসর এবং চলে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা বা চরমপন্থীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের রাতোয়াল গ্রাম সংলগ্ন খাঁনপুকুর-রাতোয়াল সড়কের পাশে বড়ইতলা এলাকার খাস জমিতে দুটি ডেইরি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ‘স্বপ্ন চাষ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লি:’ এর নামে ৭৫ লাখ এবং ‘আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লি:’ এর নামে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এসব প্রকল্প চালু হয়।
প্রকল্পের সুফলভোগী ছিলেন এলাকার তালিকাভুক্ত চরমপন্থীরা। ২০২৪ সালের শুরুতে শতাধিক গরু ক্রয়ের মাধ্যমে খামার দুটির যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু ৫ আগস্টের সরকার পতনের আন্দোলনের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সমিতির প্রভাবশালী সদস্যসহ অনেকেই রাতারাতি খামারের গরু এবং মূল্যবান সব সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। বর্তমানে সমিতির সদস্যরা পলাতক থাকায় কোটি টাকার এই প্রকল্প দেখভালের কেউ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম ও জব্বার আলী জানান, শুরুতে খামারটি ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সব লুটপাট হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে ইট-পাথরের কাঠামো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। নির্জন এলাকা হওয়ায় পরিত্যক্ত এই ভবনগুলো এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর এখানে বসে মাদকসেবী ও কারবারিদের আড্ডা। এখান থেকেই এলাকায় নানা অপকর্মের পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি এই বিপুল সম্পদ নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকাটি অপরাধের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। তাই দ্রুত এই সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান জানান, প্রকল্পটি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
What's Your Reaction?
কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর প্রতিনিধি, নওগাঁঃ