ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প, নিখোঁজ ৫০ হাজার

অনলাইন ডেস্কঃ
২৭ জুন, ২০২৬ ১১:০৬ এএম
শেয়ার করুন:
ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প, নিখোঁজ ৫০ হাজার

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ক্ষত না শুকাতেই উত্তর উপকূলে আঘাত হেনেছে নতুন আরও একটি কম্পন[1]। রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাস ও মারাকে শহর তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে[1]। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় বিকেলে এই কম্পন অনুভূত হয়[1]।

এদিকে আগের জোড়া ভূমিকম্পের পর এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ভেনেজুয়েলা সরকারের জরুরি ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে[1]।

এর আগে গত বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে[2][3]। ১৯০০ সালের পর ওই অঞ্চলে এটিকে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে[1][4]। জোড়া কম্পনের তীব্রতায় কারাকাস ও তার আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং নিহতের সংখ্যা এখন সহস্রের কাছাকাছি পৌঁছেছে[1][4]।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৯২০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন[1][4]। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ১৭২ জন মানুষ জীবিত আটকে আছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে[4]।

তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে[5][6]। তেমনটি হলে এটি হবে বিগত শতাব্দীতে লাতিন আমেরিকার অন্যতম ভয়াবহ ও মারাত্মক ভূমিকম্প।

অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ওপরও এ দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ভূমিকম্পে তাদের দুই নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ৮০ জন স্প্যানিশ নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের প্রায় দুই দিন পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাতে শুরু করেছে[4][7]। তবে দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট থাকায় স্থানীয় মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে[7][8]। এর মাঝেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধার করতে সময়ের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছেন দেশি ও বিদেশি উদ্ধারকর্মীরা[4][8]।

কয়েক দশকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভেনেজুয়েলার মৌলিক অবকাঠামো ও সেবা খাতগুলো আগে থেকেই ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল[7][8]। চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এর আগে লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছেন[7][8]। এমন দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মাঝে এই বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের থাবায় নতুন করে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।