গত ৪ মাসে ব্যাংক লুটের খবর নেই: সংসদে পার্থ

অনলাইন ডেস্কঃ
২৭ জুন, ২০২৬ ৭:১২ পিএম
শেয়ার করুন:
গত ৪ মাসে ব্যাংক লুটের খবর নেই: সংসদে পার্থ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদে এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বর্তমান সরকারের বিগত চার মাসের শাসনকালের প্রশংসা করে বলেন, এই সময়ে দেশের কোনো সংবাদপত্রে একটিও ব্যাংক লুটের খবর পাওয়া যায়নি, যা বিগত ১৭ বছরের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া দুর্নীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের একটি স্পষ্ট পার্থক্য নির্দেশ করে। 

শনিবার (২৭ জুন) সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জনকল্যাণমুখী বাজেট ও বিগত সরকারের সমালোচনা
প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনকল্যাণমুখী’ আখ্যা দিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, “এই বাজেটে ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সরঞ্জামে কর কমানো, স্টার্টআপদের জন্য সহায়তা এবং ক্যানসার, হার্ট ও চোখের চিকিৎসার মতো অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধের দাম কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বাজেটের অন্তরালে আমি একটি সুন্দর বার্তা দেখেছি—তা হলো, একটি স্বৈরাচারী সরকার ও জনগণের সরকারের মনস্তাত্ত্বিক পার্থক্য। এই বাজেটের মূল লক্ষ্যই হলো জনকল্যাণ।”

বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে এই বিজেপি নেতা বলেন, বিগত ১৭ বছর এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) ট্র্যাক রেকর্ড ভালো ছিল না, কারণ তখন দুর্নীতিতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। একশ্রেণির লুটেরা চক্রকে দেশ লুণ্ঠনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন দেখানোর নামে ২০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যা আসলে একটি ‘অহংকারের প্রতীক’ (সিম্বল অব অ্যারোগেন্স) ছাড়া আর কিছু নয়—যেমনটি ছিল সম্রাট শাহজাহানের তাজমহল। অথচ সেই সময়ে সাধারণ মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছিল।”

নতুন সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান
বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে পার্থ বলেন, “গত চার মাসের পত্রিকা ঘেঁটে আপনারা একটিও ব্যাংক লুটের খবর দেখাতে পারবেন না। এখানে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো দুর্নীতি হচ্ছে না। তাই আমাদের উচিত সরকারকে ‘বেনিফিট অব দ্য ডাউট’ বা সন্দেহের সুবিধা দেওয়া। বাজেট নিয়ে রাজনীতি না করে একে একটি জাতীয় ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”

জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি ও ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের প্রস্তাব
মদিনা সনদের ন্যায়বিচার ও মানবিকতার উদাহরণ টেনে পার্থ দেশে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতির প্রসারের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “জাকাত আমাদের অর্থনীতির একটি বড় অংশ হলেও এটি অনেকটাই আড়ালে রয়ে গেছে। আমার প্রস্তাব হলো, প্রতিটি নির্বাচনী আসনে জাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সঠিক ডাটাবেজ তৈরি করা হোক। এতে প্রবাসীরাও সহজে জাকাত দিতে পারবেন। এ ছাড়া জাকাতদাতা ও গ্রহীতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে একটি ‘যাকাত টেলিভিশন’ চালু করা যেতে পারে।”

ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাজ্য বা মালয়েশিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোতেও ইসলামিক ব্যাংকিং অত্যন্ত জনপ্রিয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট ইসলামী ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে থাকলে তার জন্য পুরো ব্যবস্থাকে দায়ী করা যায় না; সমস্যাটি ছিল ডাকাতদের, ব্যবস্থার নয়। তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা কেবল কোরিয়ার মতো উন্নয়ন চাই না, যেখানে আত্মহত্যার হার বিশ্বে সর্বোচ্চ; বরং আমরা উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজে শান্তি ও ঐশ্বরিক রহমত কামনা করি।”

ভোলার উন্নয়ন নিয়ে জোরালো দাবি
নিজের নির্বাচনী এলাকা ভোলার গ্যাস সম্পদ ও ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে জোর দাবি জানান আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, “ভোলায় ১.৩ ট্রিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস মজুত রয়েছে। এই বিপুল সম্পদের কারণে ভোলাকে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ভোলার উন্নয়নে একটি ‘ভোলা ডেভেলপমেন্ট কমিটি’ গঠন করা দরকার। এটি হতে পারে চীনের শেনজেন কিংবা মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।”

তবে এবারের বাজেটে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ‘ভোলা-বরিশাল সেতু’র কোনো বরাদ্দ না থাকায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি এবং এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ভোলায় দ্রুত অবকাঠামো ও বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।