নেত্রী তোমার ওপর বিরক্ত হইছে’ বলার পর কাদেরকে কী বলেছিলেন হারুন

অনলাইন ডেস্কঃ
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩১ পিএম
শেয়ার করুন:
নেত্রী তোমার ওপর বিরক্ত হইছে’ বলার পর কাদেরকে কী বলেছিলেন হারুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে খাবার খাওয়ানোর ছবি প্রকাশ করা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মধ্যকার একটি বিস্ফোরক অডিও ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন।

বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই ফোনালাপটি পেশ করা হয়।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে ষষ্ঠ দিনের মতো সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবীরা তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

ওবায়দুল কাদের ও ডিবিপ্রধান হারুনের কথোপকথন:

ওবায়দুল কাদের: হ্যালো?  
হারুন অর রশীদ: স্যার, আসসালামু আলাইকুম স্যার।  
ওবায়দুল কাদের: ইয়া হারুন, তুমি এত... নেত্রীও (শেখ হাসিনা) তো তোমার ওপর বিরক্ত হইছে।  
হারুন: স্যার, নেত্রীরে...  
ওবায়দুল কাদের: আমি তো তোমারে প্রতিদিন বলতেছিলাম তুমি ভালো করতেছো।  
হারুন: স্যার, স্যার, আমি... আমি...  
ওবায়দুল কাদের: ভালো করতে করতে আবার খাওয়াইয়া ওই ছবি কেন তুললা?  
হারুন: না না, এ খাওয়ার সিদ্ধান্তটা কে দিয়েছে স্যার? আমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও এসবির চিফ এরা দিছে খাওয়ানোর জন্য। খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত তো আমি নেই নাই।  
ওবায়দুল কাদের: না না, উনি তো বলছে তোমাকে ছবি তুলে বাইরে পাঠাইতে বলছে?  
হারুন: স্যার, জি স্যার। ছবি তোলা প্লাস হইলো যে বিবৃতিটা প্রকাশ করা...  
ওবায়দুল কাদের: ছবিটা নিজের কাছে রাইখা দিতা, এইটা তো...  
হারুন: না না, উনারা তো বলছে প্রকাশ করার জন্য স্যার। মনির স্যার—এসবি চিফ স্যারে জিজ্ঞাসা করেন স্যার, মনির স্যার বলছে কি না।  
ওবায়দুল কাদের: কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তো যখন এগুলো বলতেছিলেন...  
হারুন: জি স্যার।  
ওবায়দুল কাদের: তখন তো হোম মিনিস্টারও সেখানে ছিল।  
হারুন: স্যার, এখন যদি উনারা আমাকে শেল্টার না দেয়... এখন হোম মিনিস্টার ও প্রধানমন্ত্রী বলতেছে হোম মিনিস্টার নাকি কোনো নির্দেশ দেয় নাই! উল্টো হোম মিনিস্টার এখন আমারে বদলি করছে...  
ওবায়দুল কাদের: উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) তো উনাকে ডিফেন্ড করছে। উল্টো তো তুমি দোষারোপ হচ্ছো।  
হারুন: স্যার, হোম মিনিস্টার বলছে, পিএম নাকি বলছে...  
ওবায়দুল কাদের: আর ওদেরকে কী করলা? ওই ছয়জন?  
হারুন: ছয়জন তো স্যার... প্রতিদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় মিটিং হয়, প্রতিদিন। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখান থেকে যা নির্দেশ দেয়, সেটাই আমি করি। একজন ডিবি প্রধান কী করবে স্যার?  
ওবায়দুল কাদের: আমি বলছি যে, ওই তুমি যাদেরকে ওখানে হেফাজতে রাখছো...  
হারুন: জি?  
ওবায়দুল কাদের: তাদের সেইফ কি?  
হারুন: স্যার, এটা তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত যা দেয়, তাই করি। একা ডিবিপ্রধান কতটুকু করবে না তো... করবে না তো স্যার।  
ওবায়দুল কাদের: তো এরা ওখানেই আছে?  
হারুন: ওইখানেই আছে স্যার। উনারা যা বলবে, সেটাই হবে স্যার।  
ওবায়দুল কাদের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না... সেটা তো...  
হারুন: স্যার, এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমারে কমিশনাররে বলে দিছে আমার বদলি করা লাগবে। আমার বদলি করে দিচ্ছে স্যার। আমার অপরাধটা কী স্যার?  
ওবায়দুল কাদের: না, অয় (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) তো নেত্রী যে নির্দেশ দিছে, সেখানে ‘হি ওয়াজ নট ডিফেন্ডিং ইউ’। সে তো এমনভাবে উপস্থাপন করছে যে তুমি নিজেই... এসব ছবি তো তুমি নিজেই করো, নিজে নিজে করো।  

হারুন: স্যার, আমরা যা করছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির নির্দেশে করছি। এর বাইরে একবিন্দু করি নাই। আপনি এর প্রমাণ নিয়েন।  
ওবায়দুল কাদের: কিন্তু তারা তো এইটা এখন স্বীকার করে না।  
হারুন: না, স্বীকার কেন করবে না? আপনি জিজ্ঞাসাবাদ করেন, যে স্বীকার করে কি না।  
ওবায়দুল কাদের: আচ্ছা দেখি, আমি হোম মিনিস্টারের সঙ্গে কথা বলি।  
হারুন: স্যার, এটা যদি এখন স্যার না করেন, তাহলে কিন্তু অর্ডারে স্বাক্ষর হয়ে যাবে স্যার। আমি ডিবিতে থাকব না স্যার, অর্ডার করে দেবে।  
ওবায়দুল কাদের: ঠিক আছে।

মামলার পটভূমি:

জুলাই আন্দোলন চলাকালীন দেশের ছয় সমন্বয়ককে ডিবি কার্যালয়ে 'নিরাপত্তা দেওয়ার' নামে আটকে রাখা হয় এবং তাঁদের খাবার খাওয়ার ছবি পোস্ট করে আন্দোলন থমকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনার পরই ওবায়দুল কাদের ও সাবেক ডিবি প্রধানের মধ্যে এই কথোপকথনটি হয়েছিল। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান এই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্য পলাতক আসামিরা হলেন— 
১. সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম  
২. সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত  
৩. যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ  
৪. যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল  
৫. ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন  
৬. ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।