‘দৈনিক খোলাচোখ’-এর খবর প্রকাশের পর শোরগোল, ৫ শ্রমিক নিয়ে প্রকল্প এলাকায় হাজির সেই মেম্বার

শৈহ্লাচিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
২৫ জুন, ২০২৬ ১:৩১ পিএম
শেয়ার করুন:
‘দৈনিক খোলাচোখ’-এর খবর প্রকাশের পর শোরগোল, ৫ শ্রমিক নিয়ে প্রকল্প এলাকায় হাজির সেই মেম্বার

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় আড়াই লাখ টাকার সরকারি প্রকল্পে মাত্র পাঁচ হাজার টাকার কাজ করে পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন এক ইউপি সদস্য—এমন অভিযোগে স্থানীয় পাড়া-গ্রামের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সরকারি অফিস পর্যন্ত সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দৈনিক খোলা চোখ’-এ **"রুমায় আড়াই লক্ষ টাকার প্রকল্পে মাত্র ১২ হাজার টাকার কাজ"** শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর স্থানীয়দের ক্ষোভের পাশাপাশি বিষয়টি প্রশাসনেরও নজরে আসে।

প্রশাসনের চাপের মুখে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য গত বুধবার (২৪ জুন) সকালে রুমা বাজার থেকে পাঁচজন শ্রমিক নিয়ে প্রকল্প এলাকায় যান। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঐ শ্রমিকেরা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা এলিম-ছাংদালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের চারপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেন। 

স্থানীয়রা জানান, খেলার মাঠ সংস্কারের বিপরীতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও মাঠ সংস্কারের বড় কোনো কাজ করা হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা এলাকাবাসীকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, রুমা বাজার থেকে আনা পাঁচ শ্রমিককে দৈনিক ১ হাজার টাকা করে মোট ৫ হাজার টাকা মজুরি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে খেলার মাঠের আর কোনো কাজ করানো হবে কি না—এ বিষয়ে এলাকাবাসীকে স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি তিনি।

এদিকে অনিয়মের এ ঘটনায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানালেও স্থানীয়রা মেম্বার ও তার সহযোগীদের রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যের অনুকূলে কাবিটা-কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ১ নম্বর পাইন্দু ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের 'এলিম-ছাংদালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংস্কার প্রকল্প'-এর বিপরীতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রকল্পের মোট বরাদ্দের অর্ধেক টাকা (১ লাখ ২৫ হাজার টাকা) আগেই উত্তোলন করে নিয়েছেন প্রকল্প সভাপতি অংখ্যাইসা মার্মা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মংক্যউ মার্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা পাড়াবাসীকে কিছুই জানানো হয়নি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা এই প্রকল্প ও বরাদ্দের বিষয়টি জানতে পারি।"

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য অংখ্যাইসা মার্মা দাবি করেন, "পাড়াবাসীর পরামর্শে প্রথমে স্থানীয় বৌদ্ধ বিহার এলাকায় মাঠ সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু পাড়ার একটি অংশ সেখানে আপত্তি তোলায় পুনরায় বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে।" তবে আড়াই লাখ টাকার প্রকল্পে মাত্র ৫ হাজার টাকা খরচ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রুমা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. কাউছার জানান, প্রকল্পের কাজের জন্য অর্ধেক টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছিল। মাঠের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলে কোনো চূড়ান্ত বিল দেওয়া হবে না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।