সংস্কার বাস্তবায়নে জুলাই সংগঠকদের দৃঢ় ভূমিকা রাখতে হবে: এবি পার্টির চেয়ারম্যান

অনলাইন ডেস্কঃ
২৬ জুন, ২০২৬ ১১:১২ এএম
শেয়ার করুন:
সংস্কার বাস্তবায়নে জুলাই সংগঠকদের দৃঢ় ভূমিকা রাখতে হবে: এবি পার্টির চেয়ারম্যান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল অঙ্গীকার ও চেতনা ধরে রাখার প্রত্যয়ে আন্দোলনরত বিভিন্ন সংগঠনের সংগঠকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) [1]। গত বৃহস্পতিবার বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয় [1]। সভায় জুলাই আন্দোলনের অর্জন, সীমাবদ্ধতা, ভবিষ্যৎ করণীয় এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ন রাখার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় [1]。

জাতীয় স্বার্থে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এর কৃতিত্ব নেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে একধরনের বিভক্তি দেখা দিয়েছে [1]। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জুলাই আন্দোলনের সকল পক্ষের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময় অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি [1]।" তিনি আরও বলেন, সংস্কারের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জুলাইয়ের সংগঠকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দৃঢ় ভূমিকা পালন করতে হবে [1]। 

মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলন ব্যর্থ হয়নি এবং এর মাধ্যমে দেশ অনেক কিছু অর্জন করেছে [1]। তবে এই অর্জনকে টিকিয়ে রাখতে হলে কৃতিত্বের প্রতিযোগিতার চেয়ে আত্মসমালোচনা ও আত্মোপলব্ধি বেশি প্রয়োজন [1]। তিনি সতর্ক করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতো জুলাইয়ের চেতনাকেও যেন কোনো ধরনের নেতিবাচক ট্যাগিং বা অপপ্রচারের শিকার হতে না হয় [1]। ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে এবং জনগণের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি [1]।

ভবিষ্যত বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি 'জুলাই'
সভায় সমাপনী বক্তব্যে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, "জুলাই কেবল অতীতের কোনো স্মৃতি নয়, এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণের মূল ভিত্তি [1]। এই আন্দোলনে দেশের সবচেয়ে সচেতন ও শিক্ষিত তরুণ সমাজ অংশ নিয়েছিল [1]।" বিদায় হজের বাণীর মতো জুলাই আন্দোলনের মূল বার্তাও দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি [1]। তিনি মনে করেন, ২০২৪ সালের এই গণঅভ্যুত্থান আগামী দিনের সংগ্রাম ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য নতুন প্রজন্মের সাহসী যোদ্ধা তৈরি করেছে [1]।

সাংস্কৃতিক লড়াই ও নানামুখী চ্যালেঞ্জ
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ [1]। 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে জুলাইয়ের চেতনা ছড়ানোর কাজে এখনো ঘাটতি রয়েছে [1]। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার ও ট্রলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে [1]。 দেশের যেকোনো সংকটে অতীতে যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, ভবিষ্যতেও সেই ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি [1]।

এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, "জুলাইয়ের আন্দোলন নির্দিষ্ট কোনো একক পক্ষের নয়, এটি আমাদের সবার [1]।" 

প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—রেভুলেশন ওয়াচের আহ্বায়ক সানজিদ হাসান তানভির, জুলাই সংগঠক লাবিব মাহমুদ, পুনাাবের (PUNAB) সেক্রেটারি তানজিমুল ইসলাম, রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের (SDF) সদস্য সচিব আনম আয়াশ এবং বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক নোমান বিন নুরুল ইসলাম [1]। বক্তারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামোয় তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার এবং সংস্কারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেন [1]।

উক্ত সভায় বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলন, মঞ্চ ২৪, পিউসাব (PUSAB), ওয়ারিয়র্স অব জুলাই, বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদ, রেড জুলাই, স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি এবং প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠন পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন [1]। এছাড়া এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও সভায় অংশ নেন [1]।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।