ছেলের বাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে গাছতলায় বৃদ্ধার বসবাস, প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষা

জেলা প্রতিনিধি, পাবনাঃ
২৬ জুন, ২০২৬ ৯:২১ পিএম
শেয়ার করুন:
ছেলের বাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে গাছতলায় বৃদ্ধার বসবাস, প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষা

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে প্রায় ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার গাছতলায় মানবেতর জীবনযাপনের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

ভুক্তভোগী মোছা. হালিমা খাতুন (পিতা: মৃত আলিমুদ্দিন মোল্লা) অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় তিনি আর ছেলের বাড়িতে থাকতে পারছেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হালিমা খাতুন নিজের সন্তানকে লালন-পালন করে বড় করেছেন। ছেলের সংসার গড়ে তুলতে ঘর নির্মাণ থেকে শুরু করে বিয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

বর্তমানে তিনি ভাইদের বাড়ির সামনে একটি গাছের নিচে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন। খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটানোর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল্লাহ মাস্টার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাব। এসিল্যান্ড মহোদয়ও সেখানে উপস্থিত থাকবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ছেলে মো. রবিউল করিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা শাশুড়িকে বাড়ি থেকে বের করে দিইনি। তিনি নিজ ইচ্ছায় চলে গেছেন। তাকে ফিরিয়ে আনতে আমি একাধিকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি আসতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, বাবার সম্পত্তিতে যে অংশ পাবেন, সেখানে একটি ছাপড়া ঘর তুলে বসবাস করবেন।”

বৃদ্ধার ভাই এবং স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান, প্রায় এক মাস ধরে তারা তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তিনি সেখানে থাকতে কিংবা খাবার গ্রহণ করতে সম্মত হননি। তার একমাত্র দাবি, বাবার সম্পত্তিতে নিজের প্রাপ্য অংশে একটি ছোট ঘর নির্মাণ করে বসবাস করার সুযোগ দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে হালিমা খাতুনও একই বক্তব্য দেন। তিনি জানান, তিনি আর ছেলের বাড়িতে ফিরতে চান না; বাবার সম্পত্তিতে নিজের অংশে বসবাস করাই তার ইচ্ছা।

উল্লেখ্য, বৃদ্ধাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ছেলে ও পুত্রবধূ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।