দুই মেয়েকে নিয়ে অঞ্জনা সাহার সংগ্রামী জীবন, সরকারের কাছে এক চিলতে আশ্রয়ের আকুতি

শফিকুল ইসলাম মন্টু, স্টাফ রিপোর্টারঃ
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৩ পিএম
শেয়ার করুন:
দুই মেয়েকে নিয়ে অঞ্জনা সাহার সংগ্রামী জীবন, সরকারের কাছে এক চিলতে আশ্রয়ের আকুতি

নদী-বিল থেকে শাপলা তুলে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে কোনোমতে দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে দিন পার করছেন ফরিদপুরের নগরকান্দার বিধবা নারী অঞ্জনা সাহা। সম্বল বলতে নিজস্ব এক ইঞ্চি জমিও নেই তাঁর। নগরকান্দা পৌরসভার মিনারগ্রাম এলাকায় অন্যের জমিতে আশ্রিত হিসেবে একপ্রকার অনিশ্চয়তার মধ্যেই কাটছে মা ও দুই মেয়ের জীবন। 

স্বামীর মৃত্যুর পর অথৈ সাগরে পড়লেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি তিনি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জলাশয় থেকে শাপলা তুলে এনে বাজারে বিক্রি করেন। সেই সামান্য আয় দিয়েই অতি কষ্টে সন্তানদের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে দিনমজুরির মতো অনিশ্চিত আয়ে সংসার চালানো যেখানে দায়, সেখানে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠিকানা গড়া তাঁর কাছে এক অসম্ভব স্বপ্ন।

অঞ্জনা সাহার এখন একটাই চাওয়া—সন্তানদের জন্য একটু নিরাপদ আশ্রয়। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “দিন এনে দিন খাই। ঝড়-বৃষ্টির দিনে পরের জমিতে থাকা ভাঙাচোরা এই আশ্রয়ে মেয়েদের নিয়ে খুব আতঙ্কে রাত কাটে। আমার নিজের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, সরকারের কাছে শুধু একটাই আকুতি—দুই মেয়েকে নিয়ে মাথা গুঁজে নিরাপদে থাকার জন্য আমাকে যেন একটি ঘর দেওয়া হয়।”

অঞ্জনা সাহার এই জীবনসংগ্রামের পাশে দাঁড়ানো এখন মানবিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প বা ভূমিহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ সহায়তার আওতায় তাঁকে একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হলে, পরিবারটির জীবনে ফিরে আসতে পারে স্বস্তি ও নিরাপত্তা। এই অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মানবিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।