যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি না হয়েই পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় বসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
Apr 25, 2026 - 11:41
যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি না হয়েই পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় বসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। গত আট সপ্তাহের ভয়াবহ যুদ্ধে হাজারো মানুষের প্রাণহানির পর এই সফরকে শান্তি স্থাপনের পথে একটি বড় আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে রাজধানীস্থ সেরেনা হোটেলে বৈঠকে বসেন। এই একই হোটেলে ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।

আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় তিনি পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফর করছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখা।

শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আগামীকাল শনিবার ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের সরাসরি কোনো বৈঠক হবে না। তেহরান তাদের অবস্থান ও প্রস্তাবগুলো মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে তুলে ধরবে এবং ইসলামাবাদ সেই বার্তাগুলো মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দেবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান একটি নতুন প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে সেই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানেন না তিনি। ট্রাম্প আরও জানান, বর্তমানে যাঁরা দায়িত্বে আছেন তাঁদের মাধ্যমেই আলোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আলোচনার উদ্যোগ চললেও সমুদ্রপথে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানগামী একটি জাহাজকে গতিরোধ করেছে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার। উল্লেখ্য, ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম দুই দেশকেই একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অচলাবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ইরানের সামনে এখনো একটি ‘ভালো চুক্তিতে’ পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্রের পথ ত্যাগ করতে হবে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই আলোচনা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও প্রয়োজনে পাকিস্তান সফরে যেতে প্রস্তুত আছেন। শান্তি আলোচনার এই নতুন উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত কী ফলাফল আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow