ইতালি পাঠানোর নামে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: নগরকান্দায় নারী গ্রেফতার
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মোসাঃ সোনিয়া আক্তার ওরফে ছনি (২৭) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে গত শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সোনিয়া আক্তার নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের খৈয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া আক্তার দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শ্রীরামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা তারা শেখ (৫৪) তার জামাতা সাগর শেখকে ইতালি পাঠাতে সোনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সোনিয়া তাকে ইতালি পাঠানোর নিশ্চয়তা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন।
বাদীর দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম দফায় সোনিয়াকে ২৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও জামাতাকে বিদেশে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা না করায় তারা শেখ তাকে টাকার জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে সোনিয়া ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, গোয়ালচামট শাখার ২৫ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। তবে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা এবং স্বাক্ষরে জটিলতার কারণে ব্যাংক থেকে চেকটি ‘ডিজঅনার’ হয়।
পরবর্তীতে একই কৌশলে আরও ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে সোনিয়ার বিরুদ্ধে। সেই টাকার বিপরীতে দেওয়া চেকটিও ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়। পাওনা টাকা ফেরত পেতে ব্যর্থ হয়ে তারা শেখ আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের আশ্রয় নেন।
ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে দাখিলকৃত এ মামলায় সাক্ষী হিসেবে শেখ জাকির ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের গোয়ালচামট শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুধু চেক জালিয়াতিই নয়, অভিযুক্ত সোনিয়ার বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে কারাগারে থাকায় অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, বিদেশে পাঠানোর নামে এমন প্রতারণা বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ