নগরকান্দায় প্রবাসে থাকা ছেলের স্ত্রীকে শ্বশুরের তালাক দেওয়ার অভিযোগ, কাজীর বিরুদ্ধে ডিসির কাছে নালিশ

মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৩৩ পিএম
শেয়ার করুন:
নগরকান্দায় প্রবাসে থাকা ছেলের স্ত্রীকে শ্বশুরের তালাক দেওয়ার অভিযোগ, কাজীর বিরুদ্ধে ডিসির কাছে নালিশ

স্বামী প্রবাসে থাকা অবস্থায় তাঁর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর ও স্থানীয় এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজী) বিরুদ্ধে। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মওলবী মাওলানা মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারীর বাবা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে নগরকান্দার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের দেলবাড়িয়া গ্রামের মন্নু শেখের ছেলে সোহাগ শেখের সঙ্গে লস্করদিয়া ইউনিয়নের জুঙ্গুরদী গ্রামের লুকমান শেখের মেয়ে মারুফা বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে চার বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের প্রায় তিন বছর পর জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান সোহাগ শেখ।

মারুফার বাবার অভিযোগ, স্বামী প্রবাসে অবস্থান করাকালেই গত ১৩ জুলাই তাঁর মেয়েকে একতরফাভাবে ‘তিন তালাক’ দেওয়া হয়। ছেলে দেশে না থাকা সত্ত্বেও শ্বশুর মন্নু শেখের যোগসাজশে স্থানীয় নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মাওলানা মাহাবুবুর রহমান বেআইনিভাবে এই তালাক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সম্প্রতি তালাকনামার অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর গত ২০ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মারুফার বাবা লুকমান শেখ।

ভুক্তভোগীর বাবা লুকমান শেখ বলেন, “সামাজিকভাবে আনুষ্ঠানিকতা মেনেই মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। সাধ্যমতো সোনা-গহনা ও আসবাবপত্রও দেওয়া হয়। বিয়ের পর জামাই ইতালি যাওয়ার কথা বললে ধারদেনা করে তাকে টাকা দিই। পরে ইতালি না গিয়ে সে সৌদি আরব যায়। এখন সে বিদেশে থাকা অবস্থাতেই তার বাবা কাজীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমার মেয়েকে অন্যায়ভাবে তালাক করিয়েছেন। আমি এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালাকের ঘটনার পর গত ২১ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত স্বামী সোহাগ শেখ সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। স্বামী দেশে উপস্থিত না থাকা অবস্থায় শ্বশুর কীভাবে এই তালাক কার্যকর করলেন এবং কাজী কীভাবে তা রেজিস্ট্রি করলেন—তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শ্বশুর মন্নু শেখ অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলেন, “ছেলের বউ ভালো না, অনেক খারাপ; তা বলে বোঝানো যাবে না।” তবে ছেলে প্রবাসে থাকা অবস্থায় কীভাবে তালাক দিলেন—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মাওলানা মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি কেবল বলেন, “আমি এখন স্কুলে আছি, একটু পর বের হব। আজ খুব ব্যস্ত, আগামীকাল কথা বলব।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজী মাহাবুবুর রহমান পোড়াদিয়া এস এ খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নে তাঁর কোনো স্থায়ী অফিস নেই; তিনি নগরকান্দা পৌরসভা এলাকায় নিজ বাড়িতে বসেই বিবাহ ও নিকাহ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এতে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল এবং তা নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিসও হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, প্রবাসে থাকা অবস্থায় এমন একতরফা তালাক এবং কাজীর ভূমিকা নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।