হাসপাতালের বিছানায় অভিনেতা রিফাতের আর্তনাদ, দেখার নেই কেউ

অনলাইন ডেস্কঃ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:২২ পিএম
শেয়ার করুন:
হাসপাতালের বিছানায় অভিনেতা রিফাতের আর্তনাদ, দেখার নেই কেউ

একসময় যাঁর কণ্ঠ ও অভিনয়ে মঞ্চ কিংবা পর্দায় প্রাণ পেত অসংখ্য চরিত্র, আশির দশকের সেই পরিচিত কবি ও শক্তিমান অভিনেতা রিফাত চৌধুরী আজ হাসপাতালের বিছানায় একাকী লড়াই করছেন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে। অসুস্থ শরীরের তীব্র যন্ত্রণা তো আছেই, সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে তীব্র নিঃসঙ্গতা আর অর্থসংকট। যে শিল্পী একসময় মানুষকে জীবনের গল্প শুনিয়েছেন, আজ তাঁর নিজের গল্প শোনার মতো পাশে কেউ নেই।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও শুরুতে জোটেনি একটি বেড; চরম অসুস্থ শরীরে প্রথম দুই দিন (১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর) তাঁকে কাটাতে হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতেই। পরে একটি সাধারণ বেডের ব্যবস্থা হলেও ভোগান্তি কমেনি এই প্রবীণ শিল্পীর।

শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ
দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছেন রিফাত চৌধুরী। পা ও কোমরের জটিলতায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছেন তিনি। নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে রিফাত চৌধুরী জানান, “বেশ কয়েক বছর ধরেই আমি অসুস্থ, বলতে গেলে একদম অচল অবস্থা। ১০০ গজ হাঁটলেই আমাকে বসে বিশ্রাম নিতে হয়। মূল সমস্যা পা ও কোমরে, যার কারণে ঠিকমতো চলাফেরাই করতে পারছি না।” এ ছাড়া দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও তীব্র নিদ্রাহীনতায় দিন কাটছে তাঁর।

পাশে নেই পরিবার, সহায় কেবল এক বন্ধু
অসুস্থ শরীর নিয়ে হাসপাতালের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে রক্ত পরীক্ষা ও রিপোর্টের জন্য ছুটতে হলেও পাশে নেই কোনো স্বজন। রিফাত চৌধুরী নিজেই এক বুক কষ্ট নিয়ে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। এই চরম দুর্যোগে তাঁর পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছেন তাঁর অনুজ বন্ধু ও চিকিৎসক অমিতাভ অরণ্য। হাসপাতালের রিপোর্ট সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রাথমিক দৌড়ঝাঁপ তিনিই সামলাচ্ছেন। 

একসময়ের সহকর্মীদের অনেকেই এখন আর তাঁর খোঁজ নেন না বলে জানান তিনি। ফলে চিকিৎসার বিপুল ব্যয় আর দৈনন্দিন অনিশ্চয়তা তাঁর জীবনকে করে তুলেছে আরও দুর্বিষহ।

চান না করুণা, প্রত্যাশা মানবিক সহায়তার
চরম অর্থকষ্টে থাকলেও নিজের আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিতে নারাজ এই শিল্পী। তিনি কারও কাছে হাত পাততে চান না, সরকারের কাছেও বিশেষ কোনো আবেদন নেই তাঁর। তবে তিনি প্রত্যাশা করেন—মানবিকতার জায়গা থেকে সমাজের কোনো হৃদয়বান বিত্তশালী ব্যক্তি যদি এগিয়ে আসেন, তবে হয়তো তাঁর চিকিৎসাটুকু নির্বিঘ্নে চলতে পারে।

এখনো অভিনয়ে ফেরার স্বপ্ন
সব প্রতিকূলতা আর অসুস্থতা পেরিয়েও রিফাত চৌধুরীর ভেতর এখনো বেঁচে আছে অভিনয়ের গভীর তৃষ্ণা। তিনি জানান, আজও তিনি একটি ফোনকলের জন্য অপেক্ষা করেন। কেউ একজন ফোনের ওপাশ থেকে বলবে—‘রিফাত ভাই, অভিনয় করবেন?’—এই একটি ডাকই হয়তো তাঁকে আবার নতুন করে বাঁচিয়ে তুলবে। 

বর্তমানের অনেক নাটকের নির্মাণ ও মানের অবক্ষয় নিয়ে তাঁর মনে আক্ষেপ ও অভিমান রয়েছে ঠিকই, কিন্তু শিল্পের প্রতি ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি। দুর্বল শরীর নিয়ে এখনো তিনি ক্যামেরার আলো-আঁধারিতে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। 

ঢাকা মেডিকেলের একটি সাধারণ বেডে শুয়ে থাকা এই শিল্পীর আজ হয়তো কোনো বিলাসী চাহিদা নেই; প্রয়োজন কেবল সুচিকিৎসা, একটুখানি মানবিক উষ্ণতা আর বেঁচে থাকার এক চিলতে আশ্বাস।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।