সন্তানকে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা ও ভিডিও ভাইরাল: নগরকান্দায় মা আটক, শিশুরা পুলিশ হেফাজতে

স্টাফ রিপোর্টারঃ
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:২৮ পিএম
শেয়ার করুন:
সন্তানকে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা ও ভিডিও ভাইরাল: নগরকান্দায় মা আটক, শিশুরা পুলিশ হেফাজতে

ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে ওড়না ঝুলিয়ে নিজের নিষ্পাপ শিশু সন্তানকে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। কেবল তা-ই নয়, এই রোমহর্ষক দৃশ্য নিজের মুঠোফোনে ধারণও করেন তিনি। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মা বিথী আক্তারকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর দুই সন্তানকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রাম থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আটক বিথী আক্তার ওই গ্রামের মালদ্বীপপ্রবাসী আব্বাস আলীর স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে ৫৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, টিনশেড ঘরের বাঁশের আড়ায় একটি ওড়না ঝোলানো রয়েছে। এক হাত দিয়ে শিশুকে ধরে রেখে অন্য হাত দিয়ে মুঠোফোনে ভিডিও শুরু করেন মা। এরপর চৌকির ওপর উঠে শিশুটিকে শূন্যে তুলে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করেন। 

এ সময় শিশুটি হাত-পা ছুড়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে। ভিডিওতে তাকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে বাঁধিও না, ছেড়ে দাও, আমাকে ছেড়ে দাও।’ শিশুর আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘরের দরজায় সজোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের চিৎকার ও চাপের মুখে শিশুটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন ওই নারী।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পরপরই অবস্থান শনাক্তে একাধিক টিম মাঠে নামে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে জানা যায় ঘটনাটি উপজেলার রাধানগর গ্রামের। এরই মধ্যে শিশুটির ফুফু রনি বেগমও থানায় বিষয়টি অবহিত করেন। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে মা বিথী আক্তারকে আটক করা হয় এবং দুই সন্তানকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত নারীর স্বামী আব্বাস আলী গত আট বছর ধরে মালদ্বীপে অবস্থান করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশে ফিরছেন না। মূলত স্বামীকে দেশে ফিরতে বাধ্য করতে ও ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই এমন নৃশংস ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তাঁর কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ওই নারী। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।