সদরপুরে সরকারি জায়গা দখল করে ৩টি দোকান নির্মাণের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে, কাজ বন্ধ করল প্রশাসন

শফিকুল ইসলাম জনি, ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:০২ পিএম
শেয়ার করুন:
সদরপুরে সরকারি জায়গা দখল করে ৩টি দোকান নির্মাণের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে, কাজ বন্ধ করল প্রশাসন

ফরিদপুরের সদরপুরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জায়গা দখল করে তিনটি পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদরপুর বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের বাইরে, সড়কের পাশে বালুর মাঠ এলাকার মাইক্রোস্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রায় দুই শতাংশ জমিতে এসব স্থাপনা তোলা হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে এ দখলের প্রতিবাদ করতে গেলে নানা রকম হুমকি-ধামকির শিকার হতে হচ্ছে। 

এদিকে দলের নাম ব্যবহার করে সরকারি জমি দখলের অপচেষ্টায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির একাংশ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। সদরপুর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ধলা মৃধা বলেন, “ব্যক্তিগত স্বার্থে দলের নাম বা রাজনৈতিক পদবি ব্যবহার করে কেউ দখল বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার দায় দল নেবে না। এতে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। জায়গাটি সরকারি প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি দলীয় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” মাইক্রোস্ট্যান্ডের পরিবহন শ্রমিকরাও জায়গাটি উদ্ধার করে জনস্বার্থে উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

জমিটির মালিকানা নিয়ে রয়েছে পরস্পরবিরোধী দাবি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট অবগত নন বলে জানালেও বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক নান্নু মোল্লা জানান, জায়গাটি দীর্ঘকাল ধরেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের অংশ হিসেবে পরিচিত। তবে সীমানা প্রাচীরের বাইরে পড়ে যাওয়ায় বর্তমানে এটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হতে পারে।

তবে দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা সোহেল মোল্লা। তিনি দাবি করেন, “জায়গাটি আমাদের নিজস্ব রেকর্ডীয় সম্পত্তি, কোনো সরকারি জমি দখল করা হয়নি। তবে উপজেলা ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে পরিমাপের স্বার্থে কাজ সাময়িক বন্ধ রাখতে বলায় আমরা নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছি।”

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার পাঠিয়ে জায়গাটি পরিমাপ করা হয়েছে এবং আপাতত সব ধরনের নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

ইউএনও আরও বলেন, “জায়গাটির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের ভিন্ন দাবি রয়েছে। নির্মাণকারীরা এটি অন্য একটি মৌজার বলে দাবি করলেও প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা এটি ১৭ রশি মৌজার খাস জমির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ভূমি রেকর্ড ও নথিপত্র চূড়ান্তভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জায়গাটি সরকারি খাসজমি হিসেবে নিশ্চিত হলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।