ফরিদপুরে মন্দিরে চুরি: কোটি টাকার কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ মা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৪

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪২ এএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে মন্দিরে চুরি: কোটি টাকার কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ মা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৪

ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ২০ কেজি ওজনের একটি প্রাচীন কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিসহ আলফাডাঙ্গার মা-ছেলেসহ সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার বুড়াইচ গ্রামের আকবার শেখের ছেলে আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তাঁর মা সাজেদা বেগম (৬৫) এবং বোয়ালমারী উপজেলার কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) ও আতিয়ার রহমান।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আলফাডাঙ্গার বুড়াইচ গ্রামে সাদ্দামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সাদ্দামের মা সাজেদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর দেওয়া তথ্যে রান্নাঘরের মাটির নিচ থেকে চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার এবং ছয়টি পিতলের প্রতিমা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তার সাদ্দাম ও আল আমিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে মাটির নিচে পুঁতে রাখা প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের মূল কালীমূর্তিটি উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া এ মূর্তিটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এছাড়া বোয়ালমারী বাজারের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে গলানো অবস্থায় আট আনা ওজনের চোরাই স্বর্ণ জব্দ করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান সাদ্দাম একজন চিহ্নিত আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। এর আগেও তিনি কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১২৫ কেজি ওজনের একটি বিশালাকার কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছিল র‍্যাব। ওই মামলায় সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। 

আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সাদ্দামের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। 

গ্রেপ্তার চার আসামির বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।