সদরপুরে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় স্কুল মাঠ: বছরের অর্ধেক সময় কাটছে পানির নিচে

নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:০৪ পিএম
শেয়ার করুন:
সদরপুরে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় স্কুল মাঠ: বছরের অর্ধেক সময় কাটছে পানির নিচে

সামান্য বৃষ্টি হলেই খেলার মাঠ রূপ নেয় ডোবায়। বর্ষা মৌসুমে টানা কয়েক মাস মাঠজুড়ে জমে থাকে পানি। বছরের প্রায় ছয় মাসই মাঠটি পানির নিচে তলিয়ে থাকায় খেলাধুলা তো দূরের কথা, বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক যাতায়াতেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। 

এমন চিত্র ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের ১২৫ নম্বর চন্দ্রপাড়া সরদার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জলাবদ্ধতার কারণে একদিকে যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মাঠটি তুলনামূলক নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে পুরো চত্বর। বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় মাঠটি কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে যাতায়াত এবং বিদ্যালয়ের প্রাত্যহিক সমাবেশসহ নানা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। 

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় মাঠ পানির নিচে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছে। বাধ্য হয়েই তাদের দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষের ভেতরে বন্দি থাকতে হয়।

মাঠে জমে থাকা পানি শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের আশঙ্কা, হাঁটাচলার সময় অসাবধানতাবশত যেকোনো শিশু পানিতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিন জমে থাকা নোংরা পানি থেকে মশাবাহিত রোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়ছে।

এলাকাবাসীর মতে, সাময়িকভাবে পানি সেচে ফেলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে মাঠটিতে দ্রুত মাটি ভরাট করে উঁচু করা এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পানি নিষ্কাশন (ড্রেনেজ) ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ ও শারীরিক বিকাশ নির্বিঘ্ন করতে দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।