‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সিনেমার সেই রইছের অবস্থা আশঙ্কাজনক

অনলাইন ডেস্কঃ
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:৫১ পিএম
শেয়ার করুন:
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সিনেমার সেই রইছের অবস্থা আশঙ্কাজনক

কালজয়ী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এ অনবদ্য ‘রইছ’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন অভিনেতা বিজয় চৌধুরী। সম্প্রতি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেও পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন এই অভিনেতা; চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে দিন কাটছে তাঁর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় চিকিৎসার পর শনিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়।

বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিজয় চৌধুরীর ছেলে সাবিদ বিন আবু আজাদ চৌধুরী জানান, “বাবার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতির দিকে। এখন তিনি অল্প অল্প কথা বলতে ও নড়াচড়া করতে পারছেন। তবে এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন।”

পরিবার জানায়, সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তরের কথা থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত শয্যা ফাঁকা ছিল না। অন্যদিকে অভিনেতা নিজেও বারবার বাসায় ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকের কড়া নির্দেশনায় সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখা হয়েছে তাঁকে এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দুই দিন পর পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে তাঁর হৃদযন্ত্রের প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে খ্যাতিমান নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম নির্মাণ করেন ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’। এই চলচ্চিত্রে সহজ-সরল ‘রইছ’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা ও পরিচিতি পান বিজয় চৌধুরী। সিনেমার শেষাংশে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে তাঁর আত্মত্যাগের দৃশ্যটি আজও বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে।

এর আগে ১৯৯৩ সালে পরিচালক রায়হান মুজিবের ‘প্রেমপ্রীতি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল বিজয় চৌধুরীর। 

ব্যক্তিজীবনে ঢাকার দক্ষিণ বাড্ডায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা বিজয় চৌধুরী সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ধানমন্ডির আইডিয়াল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক (বিকম) সম্পন্ন করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি সালমা চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির ঘরে সাবিত চৌধুরী নামের এক ছেলে ও ফিওনা আজাদ নামের এক মেয়ে রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।