এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের দাবিতে সুমি আক্তার মীম (২২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলা থেকে নিজ ওড়না দিয়ে ঢাকা অবস্থায় তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পরিবার ও পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় শাশুড়ি ছালেহা বেগমকে (৭০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে, ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধন করেছে নিহত মীমের সহপাঠী ও স্থানীয়রা।
যৌতুকের জন্য নিয়মিত নির্যাতন:
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভাল্লুকশী গ্রামের আলিম হাওলাদারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান সুমি আক্তার মীম। পারিবারিক সম্মতিতে তার বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার ডাসার থানার আজালিয়া গ্রামের আজিজ আকনের ছেলে ফরহাদ আকনের (৩৮) সাথে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ফরহাদ, শ্বশুর আজিজ আকন, শাশুড়ি ছালেহা বেগম এবং দেবর মহিউদ্দিন আকনসহ পরিবারের সদস্যরা মীমের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা (সি.আর মামলা নং- ১৩০/২০২৪, তারিখ: ২৫/০৯/২০২৪, স্মারক- ১৫৭৪) দায়ের করা হয়। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকলেও যৌতুকের নির্যাতন থেকে নিস্তার পাননি মীম। মীম ও ফরহাদ দম্পতির ১৭ মাস বয়সী একটি অবুঝ পুত্রসন্তান রয়েছে।
হাসপাতালে পরিত্যক্ত অবস্থায় মিলল মরদেহ:
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৭ জুলাই আদর করে সুমি আক্তার মীমকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু এটিই যে মীমের শেষ যাওয়া হবে, তা ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারেননি স্বজনরা। গত মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে বাবার বাড়ির লোকজনকে মুঠোফোনে জানানো হয় মীম অসুস্থ। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মাদারীপুর সদর হাসপাতালে যান। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় মীমের নিজের ওড়না দিয়ে ঢাকা অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার পাশে শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি।
নিহতের পরিবারের দাবি, মীমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ফোলা দাগ রয়েছে। তাকে পিটিয়ে হত্যা করার পর লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায় ঘাতকরা।
শাশুড়ি গ্রেফতার ও শিশুর বর্তমান অবস্থা:
ঘটনার পর ডাসার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাশুড়ি ছালেহা বেগমকে (৭০) গ্রেফতার করেছে। প্রথমে ১৭ মাসের শিশুসন্তানটি গ্রেফতার হওয়া দাদির কাছে থাকলেও, বর্তমানে তাকে তার নানীর জিম্মায় রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী ফরহাদ আকন ও দেবর মহিউদ্দিন আকনসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে।
সহপাঠীদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ:
মীম ভাল্লুকশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী ছিলেন। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে সহপাঠীরা এই খুনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সোলায়মান মাহমুদ জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে ডাসার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারভুক্ত আসামি শাশুড়ি ছালেহা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে পারিবারিক কবরস্থানে তা দাফন করা হয়েছে। পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
ডিসেম্বর ১০, ২০২৫
মার্চ ২৫, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
বান্দরবান | ২৮ জুন, ২০২৫
জাতীয় | ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ভারত | ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অন্য খেলা | ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাজনীতি | ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাজনীতি | ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।