এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে দেহব্যবসা চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শহরের একাধিক হোটেলে বাইরে থেকে নারী এনে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, যদিও প্রশাসন এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত কিছু আবাসিক হোটেলে প্রতিদিনই এই ধরনের কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া পুরো রাতের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে শহরের হেলিপোর্ট বাজার এলাকার একটি আবাসিক হোটেল, ব্রেইলি ব্রিজ সংলগ্ন কয়েকটি হোটেল এবং হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার এলাকার কয়েকটি হোটেলসহ অন্তত ৮ থেকে ১০টি স্থানে সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব হোটেলের আশপাশে কিছু নারীকে প্রকাশ্যে ক্রেতা ডাকতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এই অবৈধ ব্যবসা টিকে আছে। তাদের দাবি, অনেক সময় অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। ফলে অভিযান পরিচালনার সময় কাউকে পাওয়া যায় না, এবং অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে, প্রশাসন সেটা অস্বীকার করেছে।
এদিকে, অনুসন্ধানে কিছু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। গোয়ালচামট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে গিয়ে একজন ম্যানেজার নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেন এবং একটি ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শন করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. শামছুল আজম বলেন, “দেহব্যবসার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করছি। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন, তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব। কোনো অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিন্টু বিশ্বাস বলেন, “প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন অভিযোগ সত্য নয়। বরং কিছু অসাধু চক্র প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “আইনের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে যেই হোক না কেন। মাদক ও নারী আর হোটেলে দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।”
সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ফরিদপুর | ২২ জুন, ২০২৬
পরিবেশ | ২২ জুন, ২০২৬
পাবনা | ২২ জুন, ২০২৬
ফরিদপুর | ২২ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।