তাজমিন হত্যা: শর্টকাটের কথা বলে নির্জন পথে নিয়ে যায় সুমন

অনলাইন ডেস্কঃ
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৩২ পিএম
শেয়ার করুন:
তাজমিন হত্যা: শর্টকাটের কথা বলে নির্জন পথে নিয়ে যায় সুমন

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার নামে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার রোমহর্ষক বিবরণ প্রকাশ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

ঘটনার আদ্যোপান্ত:  
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত তাজমিনের গ্রামের বাড়ি যশোরে হলেও বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারসহ কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে সে কক্সবাজারে যায়। কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে গভীর রাতে কুমিল্লায় ফিরে আসে সে। 

রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা থেকে ২টার মধ্যে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে সুমন মিয়ার অটোরিকশাটি ৩০০ টাকায় ভাড়া করে তাজমিন। যাত্রাপথে চালকের প্রতি সদয় হয়ে ১০০ টাকা দিয়ে দোকান থেকে কলা ও রুটিও কিনে দেয় সে। কিন্তু সুমন তাকে গন্তব্যে না নিয়ে ‘শর্টকাটে দ্রুত বাসায় পৌঁছে দেওয়ার’ কথা বলে চাঁদপুর সড়কের দিকে নিয়ে যায়। বিজরা বাজার পেরিয়ে একটি সম্পূর্ণ নির্জন স্থানে পৌঁছালে সুমন অটোরিকশার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়।

পালানোর চেষ্টা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড:  
অপরিচিত ও নির্জন পরিবেশ দেখে বিপদের আশঙ্কা বুঝতে পেরে তাজমিন অটোরিকশা থেকে নেমে চিৎকার করতে করতে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় সুমন গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরে। একপর্যায়ে তাজমিন নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করে সুমন। এরপর পাশেই ধানক্ষেতে নিয়ে মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাজমিনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

আলামত উদ্ধার ও অভিযুক্তের পলায়ন:  
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন হাতিয়ে নেয় সুমন। নিজের অটোরিকশা ও তাজমিনের ব্যাগটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখেই সে পালিয়ে যায়। এরপর কাঁচিকাটা এলাকার একটি মসজিদের পুকুরে গোসল সেরে অন্য একটি ভাড়ার অটোরিকশায় করে বাকরাবাদ এলাকায় যায়। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে নিহত ছাত্রীর আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে আত্মগোপন করে সে।

এর আগে, গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। 

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত দায় স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকরাবাদের জঙ্গল থেকে তাজমিনের আইফোন এবং ঘটনাস্থল থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।