নওগাঁর রানীনগরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই: জুয়ার দেনা মেটাতে কর্মচারীদেরই ছক, গ্রেপ্তার ৬

আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ
৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:২৫ পিএম
শেয়ার করুন:
নওগাঁর রানীনগরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই: জুয়ার দেনা মেটাতে কর্মচারীদেরই ছক, গ্রেপ্তার ৬

নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনার নেপথ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মচারীদেরই পরিকল্পিত ছক ছিল বলে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। 

অভিযানকালে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি আইফোনসহ সাতটি মোবাইল ফোন এবং লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে নগদ ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মোটরসাইকেল মালিক রাব্বি আলী, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য স্বপন (২৮) ও হাসান আলী (২৫) এবং ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী রাসেল বাবু (২২), সুজন (২৭) ও আবু তালেব (২২)।

যেভাবে ঘটেছিল ছিনতাই: 
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল আদমদীঘি রেলগেট এলাকা থেকে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে আবাদপুকুর বাজারের অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে রানীনগর উপজেলার পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের কাছে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল তাঁদের গতিরোধ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা লোহার রড দিয়ে ক্যাশিয়ার নাজমুলকে অতর্কিত মারধর করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

অনলাইন জুয়ার দেনা থেকেই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা:  
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক কর্মচারীরা জানান, রাসেল বাবু, সুজন ও আবু তালেব অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হারান। জুয়ার দেনা শোধ করতে তাঁরা বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের জমা দেওয়া টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। ঘাটতি পূরণ করতে এবং আরও টাকার লোভে তাঁরা বহিরাগত ছিনতাইকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এজেন্ট মালিকের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের চূড়ান্ত ছক আঁকেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, টাকা নিয়ে বের হওয়ার পর ভেতর থেকেই ছিনতাইকারীদের কাছে গতিবিধি ও অবস্থানের তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করেন অফিস সহায়ক রাসেল বাবু।

পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান ও গ্রেপ্তার: 
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। ৬ অক্টোবর রাতেই ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটি জব্দসহ এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে স্বপন ও হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছিনতাইয়ের পর স্বপন ও হাসানকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে আত্মগোপনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল; সেখান থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। 

পরবর্তীতে তাঁদের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর রানীনগর থেকে মূল পরিকল্পনাকারী রাসেল বাবু, সুজন ও আবু তালেবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত বাকি টাকা উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।