এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
যা আগে কখনোই ঘটেনি, ডারউইনের মাঠে সেটাই করে দেখাল নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ। দাপুটে ক্রিকেট উপহার দিয়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে প্রথমবার টেস্টে হারিয়ে ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায় রচনা করল লাল-সবুজের দল। সিরিজের প্রথম টেস্টে অজিদের ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা।
২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে এমন কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি তাদের টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় জয়; এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরের মাটিতে প্রথমবার অজিদের হারিয়েছিল টাইগাররা।
সহজ লক্ষ্য ও জয়ের মুহূর্ত
জয়ের জন্য চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রান। ছোট এই লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দ্বিতীয় ওভারেই জশ হ্যাজলউডের চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম (০)। তবে শুরুর এই ধাক্কা আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাতে পারেনি সফরকারীদের। বাকি পথ অনায়াসেই পাড়ি দেন ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়েই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
ভিত গড়েছিলেন বোলাররা, আলো ছড়ান তানজিদ
ঐতিহাসিক এই জয়ের ভিত তৈরি হয়েছিল ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই। টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়াকে হাসান মাহমুদের আগুনঝরা বোলিংয়ে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন হাসান। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে কেবল স্টিভ স্মিথ কিছুটা লড়াই করে ৭১ রান করেন।
জবাবে ব্যাট হাতে অস্ট্রেলীয় বোলারদের ওপর রীতিমতো আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসানের চোখধাঁধানো শতক (১০১), অধিনায়ক শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল ৬৫ রানের ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের পাহাড় গড়ে টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই ছিল কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের বিশাল লিড পেয়ে যায় শান্তর দল।
গ্রিনের লড়াই ছাপিয়ে মিরাজের রাজত্ব ও রেকর্ড
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে ফেরানোর একমাত্র কাণ্ডারি ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ও ঘরের মাঠে প্রথম শতক (১০৪ রান) তুলে নেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে অজি ব্যাটারদের দাঁড়াতেই দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ।
স্টিভ স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারিসহ অজিদের মিডল ও লোয়ার অর্ডারে ধস নামিয়ে ৬৬ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন মিরাজ। প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (WTC) ১ হাজার রান ও ১০০ উইকেটের দারুণ এক ‘ডাবল’ মাইলফলক স্পর্শ করেন এই অলরাউন্ডার। অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসে নেন আরও ৩ উইকেট; ম্যাচে তাঁর শিকার দাঁড়ায় মোট ৯টি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।
ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং—চার দিন জুড়ে সব বিভাগেই অস্ট্রেলিয়াকে কোণঠাসা করে রাখা এই সাফল্য কেবল একটি সাধারণ জয় নয়, বরং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও স্মরণীয় অর্জন হিসেবেই লেখা থাকবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড:
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ক্রিকেট | ১৬ আগস্ট, ২০২৬
বরিশাল | ১৬ আগস্ট, ২০২৬
রাঙ্গামাটি | ১৬ আগস্ট, ২০২৬
রাজবাড়ী | ১৬ আগস্ট, ২০২৬
নোয়াখালী | ১৬ আগস্ট, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।