সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেম, চীনা যুবককে বিয়ে করে গ্রামে ফিরলেন ফরিদপুরের কলেজছাত্রী

জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৫১ পিএম
শেয়ার করুন:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেম, চীনা যুবককে বিয়ে করে গ্রামে ফিরলেন ফরিদপুরের কলেজছাত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম। এরপর পরিবারের অমত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের সম্মতিতেই সম্পন্ন হলো বিয়ে। চীনা নাগরিক বলে দাবি করা এক যুবককে বিয়ে করে ফরিদপুরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসেছেন এক কলেজছাত্রী। এদিকে বিদেশি জামাই আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নবদম্পতিকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক গ্রামবাসী। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র কৌতূহল ও চাঞ্চল্য।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি গ্রামে। 

কনে তাহমিনা আক্তার (২০) ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং ফরিদপুর শহরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর স্বামীর নাম ওয়াং চাও (২৫)। তিনি চীনের নাগরিক বলে জানা গেছে। তবে বিয়ের পর তাঁর নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘আরিফ ইসলাম’।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাহমিনার সঙ্গে ওয়াং চাওয়ের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানার পর প্রথম দিকে তাহমিনার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নিতে চায়নি। তবে তাহমিনা নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়।

পরবর্তীতে গত ১৯ অক্টোবর ঢাকায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে হলফনামার (অ্যাফিডেভিট) মাধ্যমে ধর্ম ও নাম পরিবর্তনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ওয়াং চাও। এরপর মুসলিম রীতি অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

বিয়ের সপ্তাহখানেক পর গত ২৬ অক্টোবর রাতে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি নকুলহাটি গ্রামে আসেন ওয়াং চাও। চীনা জামাই আসার খবর মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকেও মানুষ তাঁদের দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। তবে অতিরিক্ত মানুষের আনাগোনায় কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন নবদম্পতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত লোকসমাগম ও কৌতূহল এড়াতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল থেকে নবদম্পতি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন। বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে তাঁদের আর পাওয়া যায়নি।

তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়াং চাওয়ের ব্যক্তিগত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তাঁদের জানা নেই। বর্তমানে তাহমিনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ চলছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে স্বামীর সঙ্গে তিনি চীনে চলে যাবেন। 

এ বিষয়ে আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, “বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। বিস্তারিত জানার জন্য আমি ওই বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।