৮৪ শতাংশ জমি দান করেও মেলেনি স্বীকৃতি, আলফাডাঙ্গায় নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অনিয়মের তদন্ত দাবি

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৫১ পিএম
শেয়ার করুন:
৮৪ শতাংশ জমি দান করেও মেলেনি স্বীকৃতি, আলফাডাঙ্গায় নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অনিয়মের তদন্ত দাবি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ৮৪ শতাংশ জমি দান করেও প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা হিসেবে যথাযথ স্বীকৃতি পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, দাতার জমি বিক্রি এবং পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ তুলে এর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মরহুম মকবুল হোসেন খানের পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মরহুম মকবুল হোসেন খানের মেয়ে মনিরা খানম।

লিখিত বক্তব্যে মনিরা খানম জানান, তাঁর বাবা মরহুম মকবুল হোসেন খান নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ৮৪ শতাংশ জমি দান করেছিলেন। জমি দানের সময় বিদ্যালয়ের রেজুলেশনে পরিবারের যোগ্য সদস্যদের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা রক্ষা করা হয়নি। উল্টো তাঁদের পরিবারের কাউকে প্রতিষ্ঠাতা কিংবা দাতা হিসেবে কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এমনকি চাকরির জন্য আবেদন করায় পরিবারের এক সদস্যকে বিনা অপরাধে আটকে রেখে হয়রানি করারও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ভাই মো. হারুন খান বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকলেও রহস্যজনক কারণে গত দুই বছর ধরে তাঁর বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁদের পরিবারের এক সদস্যকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে মাত্র এক মাস পর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অথচ একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া অন্য শিক্ষক এখনো বহাল তবিয়তে কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া তাঁদের দান করা জমিতে পারিবারিক ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়া এবং এর জের ধরে তাঁর ভাইকে থানায় আটকে রেখে হয়রানির অভিযোগও তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলা হয়, তিনি দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত মো. মাহাবুবুর রহমান বুদ্দু মিয়া ও মোমেনার দুটি জমি অসাধু উপায়ে বিক্রি করেছেন। 

অন্যদিকে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবিরউদ্দীনের বিরুদ্ধে বিগত ১০-১২ বছর ধরে নানা আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে তাঁর দায়িত্ব পালন ও বিদ্যালয়ে যোগদানের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।”

এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবিরউদ্দীনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, “হারুনের বেতন ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁর নাম এখনো ইএফটিতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত হলেই তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা পাবেন।”

সংবাদ সম্মেলনে মরহুম মকবুল হোসেন খানের পরিবারের সদস্য মো. হারুন খান, মো. দেলোয়ার হোসেন খান, মা মোছা. হাজেরা বেগমসহ স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।