চার দিন ধরে বান্দরবান-থানচি সড়কে গণপরিবহন বন্ধ

অনলাইন ডেস্কঃ
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:১২ পিএম
শেয়ার করুন:
চার দিন ধরে বান্দরবান-থানচি সড়কে গণপরিবহন বন্ধ

পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের চাঁদা দাবি ও অপহরণের হুমকির মুখে বান্দরবান-থানচি সড়কে টানা চার দিন ধরে গণপরিবহন (বাস) চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা। বাস বন্ধ থাকায় যাত্রীদের বাধ্য হয়ে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ টাকা খরচ করে ‘চাঁদের গাড়ি’ (জিপ)-তে যাতায়াত করতে হচ্ছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে সাঙ্গু নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বর্তমানে সড়কপথই থানচির যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। তবে সম্প্রতি একটি পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন বাস চলাচলের জন্য বার্ষিক তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। মালিকপক্ষ ও চালকদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে এ নিয়ে সংগঠনটির সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চললেও কোনো সমাধান হয়নি। উল্টো সংগঠনটি চাঁদা না দিলে চালকদের অপহরণের হুমকি দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। ফলে চালক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে গত চার দিন ধরে মালিক সমিতি এই সড়কে বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে।

বান্দরবান-থানচি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আলম জানান, “সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে গাড়ি চালালে চালকদের অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা কোনো ধরনের সমঝোতামূলক আলোচনাতেও বসছে না। তাই সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা বাধ্য হয়ে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।”

এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন এই পথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় চাঁদের গাড়িতে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। 

ভুক্তভোগী যাত্রী ও সোনালী ব্যাংক থানচি শাখার কর্মকর্তা আংবাচিং মারমা জানান, ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে স্টেশনে এসে দেখেন বাস চলাচল বন্ধ। যেখানে বাসের নিয়মিত ভাড়া ছিল ৩২০ টাকা, সেখানে চাঁদের গাড়িতে জনপ্রতি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে। 

একই দুর্ভোগের কথা জানান স্থানীয় বিদ্যামণিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অল ড্রিম। তিনি জানান, পরীক্ষা দিতে বান্দরবান এসেছিলেন। ফেরার পথে বাস না পেয়ে নিরুপায় হয়ে সহযাত্রীদের সঙ্গে সাড়ে আট হাজার টাকায় একটি চাঁদের গাড়ি রিজার্ভ করে গন্তব্যে রওনা হতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে থানচির দুর্গম ছোট মদক এলাকায় বাড়ি ফেরা পোশাককর্মী পূর্ণিমা ত্রিপুরা বলেন, “দেড় বছর পর বাড়ি ফিরছি। কিন্তু স্টেশনে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। গণপরিবহন না থাকায় দ্বিগুণ ভাড়া গুনে বাড়ি যেতে হচ্ছে।”

দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে সড়কে স্বাভাবিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।