বগুড়ায় শিক্ষককে পেটাল সপ্তম শ্রেণির ছাত্র: ‘ছেলেকে পেলে পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়াব’ বললেন বাবা

অনলাইন ডেস্কঃ
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:০৩ পিএম
শেয়ার করুন:
বগুড়ায় শিক্ষককে পেটাল সপ্তম শ্রেণির ছাত্র: ‘ছেলেকে পেলে পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়াব’ বললেন বাবা

শ্রেণিকক্ষে দুষ্টুমির কারণে শাসন করায় এক শিক্ষকের ওপর গাছের ডাল দিয়ে অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত ওই শিক্ষকের থুতনিতে আটটি সেলাই লেগেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র (টিসি) দিয়ে বহিষ্কার করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে ঘটনার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছে ওই শিক্ষার্থী। ছেলের এমন আচরণে লজ্জিত ও মর্মাহত হয়ে তাকে খুঁজে পেলে শিক্ষকের পা ধরে ক্ষমা চাওয়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীটির ট্রাকচালক বাবা।

ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে। প্রতিষ্ঠানটির শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আবু রায়হানের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত দুষ্টুমি করায় শিক্ষক আবু রায়হান ওই শিক্ষার্থীকে শাসন ও সতর্ক করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তার অভিভাবককে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্কুল ছুটির পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সামনে শিক্ষক আবু রায়হানের ওপর হামলা চালায় ওই ছাত্র। সে গাছের ডাল দিয়ে শিক্ষকের মুখে ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে শিক্ষকের থুতনি ফেটে যায় এবং চিকিৎসকেরা সেখানে আটটি সেলাই দেন।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে। তার বাবা মো. বিপুল মিয়া জানান, তিনি পেশায় একজন ট্রাকচালক। দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি করে সংসার চালান এবং ছেলেকে সৎ ও সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, *“আমি কখনো ছেলেকে ‘তুই’ বলেও ডাকি না। সে এমন কাণ্ড ঘটাবে, তা কোনোদিন কল্পনাও করতে পারিনি। ঘটনার দিন মাগরিবের সময় দোকান থেকে কিছু টাকা নিয়ে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়, এরপর আর ফেরেনি। আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। ছেলেকে যদি ফিরে পাই, তবে সরাসরি ওই শিক্ষকের সামনে নিয়ে যাব এবং তার পায়ে ধরিয়ে ক্ষমা চাওয়াব।”*

এদিকে, শিক্ষকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ঘটনার বিচার ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধনে প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে চলা এই প্রতিষ্ঠানের বহু শিক্ষার্থী আজ সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর এমন অপ্রীতিকর কাণ্ড আমাদের দীর্ঘদিনের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সন্তানদের চলাফেরা ও আচরণ নিয়ে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়া জরুরি।”

বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হোসনে মুবিনা নীলা বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতোই দেখি ও শাসন করি। সামান্য সতর্ক করায় শিক্ষকের ওপর এমন হামলা পুরো শিক্ষকসমাজের জন্যই চরম অপমান ও দুঃখজনক।”

বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পরই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।