‘তাজমিনকে ধর্ষণ-হত্যার পর মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করে সুমন’

অনলাইন ডেস্কঃ
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৪০ পিএম
শেয়ার করুন:
‘তাজমিনকে ধর্ষণ-হত্যার পর মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করে সুমন’

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক ও লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে নিজের দায় স্বীকার করেছে সে। পুলিশ জানিয়েছে, ধানক্ষেতে কিশোরীর মৃত্যু নিশ্চিত করার পর অটোরিকশাটি ফেলে রেখে পাশের একটি মসজিদের পুকুরে নির্বিকারভাবে গোসল সেরে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায় ঘাতক সুমন।

শনিবার কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া মামলার তদন্ত ও আসামির স্বীকারোক্তির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এর আগে গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার জগতপুর চরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। 

পুলিশ জানায়, নিহত তাজমীনের গ্রামের বাড়ি যশোরে হলেও বাবার চাকরির সুবাদে সে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত। 

ঘটনার রাতে যা ঘটেছিল  
তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ৩০০ টাকায় ভাড়া করে তাজমিন। পথিমধ্যে তাজমিন চালক সুমনকে কলা-রুটি কিনে খাওয়ার জন্য ১০০ টাকাও দেয়। 

কিছুদূর যাওয়ার পর দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার (‘শর্টকাট’) কথা বলে নূরজাহান হোটেলের সামনে দিয়ে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুর রোডের দিকে চলে যায় চালক। পরে বিজরা বাজার পার হয়ে একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছে অটোরিকশার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয় সুমন। জায়গাটি চিনতে না পেরে তাজমিন অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন নিস্তেজ হয়ে পড়লে সুমন তাকে ধর্ষণ করে। পরে ধানক্ষেতে নিয়ে তাজমিনের মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতক।

আইফোন ছিনতাই ও পালিয়ে যাওয়া  
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর তাজমিনের ব্যাগ থেকে একটি মূল্যবান আইফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ভ্যানিটি ব্যাগটি ধানক্ষেতেই ফেলে দেয় সুমন। এরপর অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে রেখেই কাঁচিকাটা মসজিদের পুকুরে গোসল করে সে। সেখান থেকে অন্য একটি অটোরিকশাযোগে বাখরাবাদ এলাকায় গিয়ে পুকুরপাড়ের ঝোপঝাড়ে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুকিয়ে রাখা আইফোন ও ঘটনাস্থল থেকে ভ্যানিটি ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে পুলিশের আরও কিছু পর্যবেক্ষণ  
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, রাত ২টা ৫৮ মিনিটে তাজমিন তার বাবাকে নিজের ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়েছিল। তবে তার বাবা তা তাৎক্ষণিকভাবে খেয়াল করেননি; ভোরের দিকে লোকেশন দেখে তিনি ঘটনাস্থল এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। 

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের আধা কিলোমিটার আগের একটি সিসিটিভি ফুটেজে অটোরিকশায় তাজমিনকে শান্তভাবে বসে থাকতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেবল চালক সুমনেরই সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। 

তবে ঘটনার কিছু বিষয় এখনো তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি উল্লেখ করেন, তাজমিন গত ৪ অক্টোবর থেকেই নিখোঁজ ছিল, কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো জিডি বা অভিযোগ করা হয়নি। ওই চার দিন সে কোথায় ছিল এবং কার সঙ্গে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া সুমনের স্বীকারোক্তি থাকলেও ধর্ষণের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হতে ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।