এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর নিজের রাজনীতি থেকে অবসর এবং দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিশদ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’কে দেওয়া এক দীর্ঘ লিখিত সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, গণভবন ছেড়ে যাওয়া ও পদত্যাগ থেকে শুরু করে দলের পুনর্গঠন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সেখান থেকেই তিনি এই সাক্ষাৎকারটি দেন।
কখন অবসর নেবেন শেখ হাসিনা?
দলের নেতৃত্ব ও নিজের অবসর নেওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, "বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তা, তাদের উন্নত জীবনমান ও অর্থনৈতিক মুক্তি, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন, সকলের সমানাধিকার এবং আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আগামী দিনের সাফল্য নিশ্চিত করে, তার পরেই আমি অবসর নেব।"
দিল্লি পৌঁছানোর পর তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের দেওয়া এক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তে এখনো অনড় কি না? জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, "জয়ের বক্তব্য আমার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষ সারা জীবন একই দায়িত্বে থাকে না। ব্যক্তিগতভাবে আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই। আমিও বহুবার বলেছি নতুন নেতৃত্ব আসুক, তরুণরা দায়িত্ব নিক।"
তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এখনই অবসরে যাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আজ বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। গণতন্ত্র আক্রান্ত, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করার আইন করা হয়েছে। আমার নেতাকর্মীরা কারাগারে, অনেকে ঘরছাড়া। সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে রয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে। এমন একটা সময়ে আমি কীভাবে বলি যে আমি বিশ্রামে যাচ্ছি? আমি ক্ষমতা চাই না, কিন্তু জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারি না।"
নেতৃত্ব কোনো পারিবারিক সম্পত্তি নয়
আওয়ামী লীগের পরবর্তী নেতৃত্ব কার হাতে যাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, সেটি কোনো ব্যক্তিগত উত্তরাধিকার নয়। আওয়ামী লীগ কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক দল। সম্মেলনের (কাউন্সিল) মাধ্যমে, কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে এবং যোগ্যতা, ত্যাগ ও আদর্শিক দৃঢ়তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।"
দলের পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করেন, যারা কঠিন সময়ে সংগঠন ও কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন না, তাদের বিষয়ে দলীয় কাঠামোর মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে প্রবীণ নেতাদের অবদানও স্মরণ করেন তিনি। তিনি বলেন, "আমাদের অনেক প্রবীণ নেতা সারা জীবন দলকে দিয়েছেন, জেল খেটেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন। তাদের অবদান কখনো অস্বীকার করা যাবে না। তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের সম্পদ।"
তরুণদের নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আপাতত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই ইঙ্গিত দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত করা হবে। নতুন প্রজন্মের মেধাবী, দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণদের নেতৃত্বে নিয়ে আসার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে করা হয়েছে।
বর্তমান সংকটকালেও দলের হাল ধরে রাখা তরুণদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আমাদের অনেক তরুণ নেতা আজ নিজ নিজ অবস্থান থেকে, রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল জুলুম-অত্যাচার মোকাবিলা করে দৃঢ়তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের পতাকা ধরে রেখেছেন। এরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।"
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ফরিদপুর | ৯ জুন, ২০২৬
বাংলাদেশ | ৯ জুন, ২০২৬
ফরিদপুর | ৯ জুন, ২০২৬
রাঙ্গামাটি | ৯ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।