উদ্বোধনের কয়েক মাসেই বেহাল কালকিনি পৌর বাস টার্মিনাল: দুর্ঘটনার শঙ্কা, চরমে যাত্রী দুর্ভোগ

জাহিদ (কালকিনি) মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৩৪ পিএম
শেয়ার করুন:
উদ্বোধনের কয়েক মাসেই বেহাল কালকিনি পৌর বাস টার্মিনাল: দুর্ঘটনার শঙ্কা, চরমে যাত্রী দুর্ভোগ

প্রায় এক দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চালু হয়েছিল কালকিনি পৌর বাস টার্মিনাল। তবে উদ্বোধনের মাত্র কয়েক মাস পার হতেই অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়তে বসেছে এর সুফল। টার্মিনালের প্রবেশ ও নির্গমন মুখে মহাসড়ক লাগোয়া অংশে বড় বড় খানাখন্দ থাকায় যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে আলো ও পানির সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর বাস টার্মিনালের প্রবেশ ও প্রস্থান মুখে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এসব গর্ত সরাসরি মহাসড়কসংলগ্ন হওয়ায় দূরপাল্লার ভারী যানবাহন চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে কর্দমাক্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে টার্মিনালে প্রবেশ কিংবা বের হওয়ার সময় যানবাহন বিকল হওয়াসহ যাত্রীরা মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। 

টার্মিনালের পরিবহন কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কিছুদিন আগে পৌরসভার পক্ষ থেকে আধলা ইট ফেলে রোলার করা হয়েছিল। কিন্তু টেকসই কাজ না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ইট উঠে গিয়ে আগের চেয়েও বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টার্মিনাল চালুর পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সড়কবাতি বা ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়নি। সন্ধ্যার পরই পুরো চত্বর অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে, যা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করছে। এছাড়া টার্মিনালে পানির সংযোগ না থাকায় শৌচাগার ব্যবহারে যাত্রীদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এমনকি টার্মিনালের কোনো পরিচিতি সাইনবোর্ড পর্যন্ত এখনো টাঙানো হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

টার্মিনালের ‘সার্বিক পরিবহন’ কাউন্টারের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ তারেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “টার্মিনাল উদ্বোধন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আজ পর্যন্ত ল্যাম্পপোস্ট, টিউবওয়েল কিংবা পানির লাইনের কোনো ব্যবস্থা পৌর কর্তৃপক্ষ করতে পারেনি। রাতে অন্ধকারের কারণে যেমন নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি প্রবেশ মুখের খানাখন্দে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা দ্রুত এসব মৌলিক সমস্যার সমাধান চাই।”

টার্মিনালের অপর এক কাউন্টারের স্বত্বাধিকারী মাহবুব হোসেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “টার্মিনালের সামনে দিয়ে মহাসড়কে বাস-ট্রাক অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছুটে চলে। টার্মিনালের প্রবেশ ও প্রস্থান মুখে দ্রুত দুটি স্পিডব্রেকার (গতিরোধক) দেওয়া না হলে যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

এ বিষয়ে কালকিনি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রাকিব হাসান বলেন, “টার্মিনাল উদ্বোধনের পূর্বের কিছু কাজের বিল এখনো বকেয়া রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পৌর প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে খানাখন্দগুলো সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি ল্যাম্পপোস্ট ও পানির সংযোগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে; এজন্য আমাদের কিছুটা সময় দিতে হবে।”

কালকিনি পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস বলেন, “আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। তবে টার্মিনালের বিষয়টি ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। জনভোগান্তি লাঘবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।