দৌলতপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ: অধ্যক্ষকে আটকের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ মোঃ হারুন অর রশীদ
৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:১৮ পিএম
শেয়ার করুন:
দৌলতপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ: অধ্যক্ষকে আটকের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খলিশাকুণ্ডি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত আশিকুল্লাহ স্থানীয় ‘মারাকাজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ’ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল (অধ্যক্ষ)। তিনি যশোর জেলার বাসিন্দা এবং পার্শ্ববর্তী মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আঁটি গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উপজেলার মালিথাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত: 
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মাদ্রাসায় অবস্থানকালে ওই শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ আশিকুল্লাহ। বিষয়টি ওই শিক্ষার্থী বাড়ি গিয়ে পরিবারকে জানায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

হেফাজতে নেওয়ার সময় সংঘর্ষ:
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলে জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ বাধে। এতে ওসি খালেদুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। 

পরিবারের বক্তব্য ও স্থানীয়দের দাবি: 
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, “লোকমুখে শুনে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে সে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল প্রায়ই তার সঙ্গে এ ধরনের আপত্তিকর আচরণ করতেন বলে ছেলে জানিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”  

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ছিল। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আশিকুল্লাহর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।