এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় বারাসিয়া নদীর ওপর একটি পাকা সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই ইউনিয়নের নয়টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। যুগের পর যুগ ধরে নদীর দুই প্রান্তের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ পারাপার হলেও দীর্ঘদিনেও সেখানে নির্মিত হয়নি কোনো পাকা সেতু।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ও গুনবহা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বারাসিয়া নদী। গুনবহা ইউনিয়নের জালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ‘ফুলতলা ঈদগাহ’ সংলগ্ন স্থানে স্থানীয়রা নিজেদের অর্থ ও শ্রমে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে রেখেছেন। এই সাঁকোটি ব্যবহার করেই চতুল ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর, শুকদেবনগর, রামদেবনগর ও আরাজী বাইখীর এবং গুনবহা ইউনিয়নের জালিয়াডাঙ্গা, ধোপাপাড়া, দরিহরিহরনগর, চাপলডাঙা ও গুনবহা গুচ্ছগ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোটির এক প্রান্তে রয়েছে শুকদেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অপর প্রান্তে শিরগ্রাম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিদিন দুই পারের শত শত কোমলমতি শিশু ও শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন নদীতে পানি থইথই করে, তখন সাঁকোটি আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে নদীর পাড়ে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে হয় অভিভাবকদের।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আঞ্চলিক মহাসড়কের বাইখীর ক্লাবঘর থেকে শুকদেবনগর হয়ে জালিয়াডাঙ্গা সড়কের শেষ প্রান্তে বারাসিয়া নদীর অবস্থান। জালিয়াডাঙ্গা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাত্র একটি সেতুর অভাবে আমরা পিছিয়ে আছি। এখানে ১২০ মিটারের একটি পাকা সেতু থাকলে নদী পার হতে সময় লাগত মাত্র ৩০ সেকেন্ড। কিন্তু সেই সেতুর অভাবে কৃষিপণ্য পরিবহন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বাইখীর চৌরাস্তা ঘুরে প্রায় ৩ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে বাজারে যেতে হয়।”
জালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ব্যবসায়ী শিহাব মোল্যা বলেন, “প্রতি বছর আমরা চাঁদা তুলে নিজেদের খরচে বাঁশের সাঁকোটি সংস্কার করি। বর্ষা এলে নদী পার হতে বুক কাঁপে। জালিয়াডাঙ্গা ফুলতলা ঈদগাহ এলাকায় একটি পাকা ব্রিজ হলে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হতো।”
একই গ্রামের বাসিন্দা আ. আলীম মোল্যা জানান, বাঁশের সাঁকোটির বর্তমান কাঠামো খুবই জরাজীর্ণ। যেকোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সেতুটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সেতুটি নির্মাণের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উপজেলার প্রতিটি সমন্বয় ও উন্নয়ন সভায় বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছি। উপজেলা প্রকৌশলী বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছেন। আশা করছি দ্রুতই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতুটি নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
এলাকাবাসীর জোর দাবি, জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা ও দুই ইউনিয়নের মেলবন্ধন তৈরিতে বারাসিয়া নদীর ওপর দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
জাতীয় | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
সারাদেশ | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
সারাদেশ | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
ফরিদপুর | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
পিরোজপুর | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।