সুস্থ হয়ে ফের দায়িত্ব পালনের ঘোষণা চুয়েট ভিসির

অনলাইন ডেস্কঃ
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:২৯ পিএম
শেয়ার করুন:
সুস্থ হয়ে ফের দায়িত্ব পালনের ঘোষণা চুয়েট ভিসির

শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে সুস্থ হওয়ার পর আবারও ক্যাম্পাসে ফিরে দায়িত্ব পালনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। একই সঙ্গে নিজের পদত্যাগ কিংবা ক্যাম্পাসে আর না ফেরার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান। 

উপাচার্য বলেন, "টানা অবরুদ্ধ থাকায় একটি অমানবিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এতে আমার বুকে ও মাথায় তীব্র ব্যথা দেখা দেয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে আমার চিকিৎসা চলছে।" 

পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "আমি পদত্যাগ করেছি কিংবা ভবিষ্যতে আর চুয়েট ক্যাম্পাসে পা রাখব না—এমন কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি আমি কখনো দিইনি। আমাকে যখন ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন আমার কথা বলার মতো শারীরিক পরিস্থিতি ছিল না। যারা এমন মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচার করুন।" তিনি আরও জানান, সরকার তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, "তোমরা কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের ফাঁদে পা দিয়ে অমূল্য শিক্ষাজীবন নষ্ট করো না। তোমরা যথেষ্ট সচেতন ও বুদ্ধিমান, কারও দ্বারা ব্যবহৃত হবে না বলেই আমার বিশ্বাস। রাষ্ট্র আমাকে যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা পালন করতেই আমি চুয়েটে এসেছি; কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে আসিনি।"

ঘটনার প্রেক্ষাপট:  
এর আগে টানা ৩০ ঘণ্টা নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ১১ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় প্রশাসন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের উপস্থিতিতে কড়া পুলিশি পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে করে উপাচার্যকে বের করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে উপাচার্য নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। তারা উপাচার্যকে দুপুর ১২টার মধ্যে কার্যালয় ত্যাগের আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভবনের মূল ফটকে পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে টানা ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় আটকা পড়েন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।