নবগঙ্গার তীরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে নহাটা শ্মশান কালীবাড়ি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়

বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, স্টাফ রিপোর্টার, মাগুরাঃ
৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:১৬ পিএম
শেয়ার করুন:
নবগঙ্গার তীরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে নহাটা শ্মশান কালীবাড়ি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা শ্মশান কালীবাড়ি প্রাঙ্গণ। নবগঙ্গার তীরঘেঁষা ছায়াঘেরা ও সবুজে মোড়া শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশ। প্রতিদিন সকাল হতেই সেই শান্ত পরিবেশ মুখরিত হয়ে ওঠে কোমলমতি শিশুদের মিষ্টি হাসিমুখ আর কলকাকলিতে। প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এই ব্যতিক্রমী প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠ গ্রহণ করছে ৩০ জন শিশু। শুধু পাঠ্যবইয়ের অক্ষরের সঙ্গেই নয়; শৃঙ্খলা, প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতার আলোয় আলোকিত হয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের পথে হাঁটছে তারা।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের বাস্তবায়নে ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ (ষষ্ঠ পর্যায়)-এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে নহাটা শ্মশান কালীবাড়ি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডিতে প্রবেশের আগেই শিশুদের পড়াশোনার মজবুত ভিত গড়ে তুলতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সকাল হলেই দেখা যায় এক চমৎকার দৃশ্য—মায়ের হাত ধরে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে বই-খাতা নিয়ে ছুটে আসছে শিশুরা। তাদের আগমন আর হৈচৈয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শ্মশান কালীবাড়ি আঙিনা। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার—সপ্তাহে পাঁচ দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে এ বিদ্যালয়ের আনন্দঘন পাঠদান। অত্যন্ত যত্ন ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন অভিজ্ঞ শিক্ষিকা স্বপ্না রাণী স্বর্ণকার। খেলার ছলে ও মাতৃস্নেহে অক্ষরজ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি তিনি শিশুদের শিষ্টাচার ও মানবিক মূল্যবোধের পাঠ দিচ্ছেন। 

নদী, প্রকৃতি এবং স্থানীয় সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে এই আঙিনায়। কোমলমতি শিশুদের চোখের স্বপ্ন আর মুখের অমলিন হাসিই এখন নহাটা শ্মশান কালীবাড়ি প্রাঙ্গণের প্রতিদিনের পরিচিত চিত্র। সচেতন মহলের মতে, গ্রামীণ জনপদে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের শিক্ষার আলোয় যুক্ত করার এই প্রয়াস আগামীর মানবিক সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।