'আমাকে মাইনাস করে কোনো উন্নয়ন কাজ করা যাবে না’: এমপি মাসুদ সাঈদী

মোঃ নাজমুল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুরঃ
৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২১ এএম
শেয়ার করুন:
'আমাকে মাইনাস করে কোনো উন্নয়ন কাজ করা যাবে না’: এমপি মাসুদ সাঈদী

পিরোজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সম্পৃক্ত করার জোর তাগিদ দিয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। পৌর কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "পৌরসভার উন্নয়ন একটি সমন্বিত কাজ। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত স্থানীয় সংসদ সদস্য, তাই আমাকে মাইনাস করে কোনো কাজ করা যাবে না।"

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় পিরোজপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

মাসুদ সাঈদী বলেন, "পিরোজপুর একটি শতবর্ষী পৌরসভা। এখানকার রাস্তাঘাট ও সুপেয় পানির সংকট নিয়ে আমি জাতীয় সংসদে দুইবার কথা বলেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত একটি সুপরিকল্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনা আমি পাইনি। কর্তৃপক্ষের মনে রাখা উচিত, আমার নির্বাচনী এলাকার যেকোনো উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আমার সঙ্গে সমন্বয় থাকা জরুরি। আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবেই কাজ করতে চাই।"

সংসদ সদস্যদের সরকারি বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "নীতিমালার কারণে এমপির অনুকূলে আসা বরাদ্দগুলো সাধারণত উপজেলায় দিতে হয়, পৌরসভায় সরাসরি বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে পৌরবাসীর প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই পৌরসভায় যে বাজেট আসে, তা কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হচ্ছে—সেটি জানার অধিকার আমার এবং আমার এলাকার জনগণের রয়েছে।"

পৌরসভার নানাবিধ সংকট এমপির কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "বাচ্চা না কাঁদলে যেমন মা দুধ দেয় না, তেমনি আপনারা সমস্যাগুলো না জানালে আমি বুঝব কীভাবে? সব কাজ একা এমপির নয়; এটি একটি যৌথ উদ্যোগ। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও সমন্বিতভাবেই কাজ করতে হয়। তাই আশা করব, ভবিষ্যতে পিরোজপুর পৌরসভা আমার সঙ্গে আলোচনা না করে কোনো একক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে না।"

স্থবির হয়ে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, "দুর্নীতি মামলার অজুহাতে কাজ ফেলে রাখা যাবে না। প্রয়োজনে আগের ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব। ফেলে রাখা কাজগুলো বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতা দেখিয়েছেন এবং আশা করছি এ বছরের মধ্যেই কাজগুলো শুরু হবে। পিরোজপুর পৌরসভা ও নাজিরপুরের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার প্রায় ৪০ মিনিট ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে সব শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবদের ডেকে নির্দেশনা দিয়েছেন।"

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—পিরোজপুর পৌরসভার প্রশাসক মাহমুদুর রহমান মামুন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা জামাল মল্লিক, নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বণিক, প্রকৌশলী শামীম এবং সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানসহ পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। 

এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুর রব, সেক্রেটারি জহিরুল হক এবং পৌর আমির ইসহাক আলী খানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।