ফরিদপুরে ৩০ শিক্ষার্থীর স্কুলত্যাগের কারণ জানালেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা

সদরপুর(ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:৩৫ পিএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে ৩০ শিক্ষার্থীর স্কুলত্যাগের কারণ জানালেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একযোগে ৩০ শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনার কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধ, হুমকি-ধমকি এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকাকেই এর মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন তারা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুন্নাফ শেখ।

লিখিত বক্তব্যে অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে সমর্থন না করায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক ওই প্রধান শিক্ষক ও তাঁর ছেলেরা অভিভাবকদের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। ফলে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কিত হয়ে বাধ্য হয়ে তারা বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মো. আকল শেখ নামের এক অভিভাবক জানান, তাঁর ছেলে ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ছেলের নিরাপত্তা ও পড়াশোনা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি ছাড়পত্র নিতে বাধ্য হয়েছেন। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করে মাকসুদা বেগম নামের আরেক অভিভাবক বলেন, সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার নিশ্চয়তা না পেয়েই তারা বিদ্যালয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অভিভাবকেরা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকায় পশু চিকিৎসা, বিবাহ নিবন্ধন (কাজীগিরি) ও স্থানীয় মাতুব্বরির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ফলে তিনি পাঠদানে পর্যাপ্ত মনোযোগ দিতে পারেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়।

তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদ। হুমকি দেওয়ার বিষয়টিকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে তিনি বলেন, “অবসর গ্রহণের পর থেকে আমি আর বিদ্যালয়ে যাই না। পরিচালনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাকে ও আমার পরিবারকে জড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে অভিভাবকদের ব্যবহার করছে।”

অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান বলেন, “আমি টুকটাক পশু চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত—এটি সত্য, তবে তা স্কুল বাদ দিয়ে নয়। বিদ্যালয়ের কর্মসময়ে আমি ক্লাসেই থাকি। অফিশিয়াল বিশেষ প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে শুধু উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাই।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে অভিভাবকেরা জানান, তারা চান বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিশু যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা আতঙ্ক ছাড়া স্বাভাবিক ও আনন্দময় পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে। এ লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।