কাপ্তাইয়ে চাঞ্চল্যকর সুমি হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড, রাঙামাটির ইতিহাসে দ্বিতীয় রায়

রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ
৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:২৩ পিএম
শেয়ার করুন:
কাপ্তাইয়ে চাঞ্চল্যকর সুমি হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড, রাঙামাটির ইতিহাসে দ্বিতীয় রায়

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী হাসিনা বেগম ওরফে সুমি হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ মাহিবুর কামাল ওরফে মোহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ডের রায়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ মার্চ সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দোবাসী বাজারের ভাড়া বাসা থেকে কাপ্তাই নতুন বাজারের উদ্দেশে বের হন হাসিনা বেগম। পরদিন (১২ মার্চ) কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা-কাপ্তাই ইউনিয়নের বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি পরিত্যক্ত শৌচাগার থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত ও আগুনে ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন, ১৩ মার্চ নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তবে তদন্তে বাদীর নারাজি থাকায় আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। পিবিআই দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি একই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও অকাট্য তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করতে না পারলেও আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু বলেন, *"এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি স্পষ্ট বার্তা গেল যে, অপরাধ করে কেউ পার পায় না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"*

অন্যদিকে, রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাসুম রহিম বলেন, *"আমরা এ রায়ে সংক্ষুব্ধ। আসামির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত সাত কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।"*

আইন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাঙামাটির বিচারিক ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্তমূলক রায় অত্যন্ত বিরল এবং এটি পাহাড়ি জনপদে সহিংসতা ও অপরাধপ্রবণতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।