ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: প্রেমিকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৪ এএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: প্রেমিকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে প্রেমিকসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার এই অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে হস্তান্তরের জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটায় ফরিদপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ পাহারায় তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী গ্রামের মো. নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লংকারচর গ্রামের তারক চন্দ্র মণ্ডল (২৬) এবং একই গ্রামের নাসির মোল্যা (৩৬)। এ মামলার অপর দুই আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে তাদের বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

**মামলার পটভূমি ও বিবরণ:**  
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাগুরার মহম্মদপুর এলাকার কলেজছাত্র নাসির মোল্যার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নাসির ওই ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। 

এর ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে নাসির ওই ছাত্রীর গ্রামে এসে বাড়ির পাশের একটি বাগানে অপেক্ষা করতে থাকে। ছাত্রীটি সেখানে পৌঁছালে দেখতে পায় নাসিরের সঙ্গে আরও দুই যুবক রয়েছে। 

সেখান থেকে ওই তিন যুবক ছাত্রীটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নৌকায় করে মধুমতি নদীর একটি নির্জন চরে নিয়ে যায়। সেখানে তারা ছাত্রীটিকে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ও ছবি ধারণ করে। পরে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা।

**মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া:**  
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বোয়ালমারী থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের দুই দিনের মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৩ মার্চ আদালতে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আহাদুজ্জামান শেখ। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।

রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, "ভুক্তভোগীর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, উদ্ধারকৃত ডিজিটাল আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা আশা করি, দৃষ্টান্তমূলক এই রায়ের ফলে সমাজে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি কমবে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।