এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের চেনা ছবিটা একসময় কেমন ছিল? নতুন বল হাতে একজন জেনুইন পেসারের জন্য হাহাকার, আর ম্যাচের শুরু থেকেই অধিনায়কের অপেক্ষা—কখন বলটা তুলে দেওয়া যাবে সাকিব-রাজ্জাক-মিরাজদের স্পিন আক্রমণে। পেসারদের কেবল কাচের পাত্রের মতো আগলে রাখার সেই দিনগুলো এখন অতীত।
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে যা ঘটল, তা কেবল একটি সাধারণ টেস্ট জয় নয়; লাল-সবুজের ক্রিকেটে আস্ত এক যুগের খোলস বদলে ফেলার গল্প। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই চেনা কন্ডিশনে নিখাদ পেস দিয়ে কাঁপিয়ে টেস্ট জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ। এ জয় কেবল আত্মবিশ্বাসের নয়, বিশ্বমঞ্চে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের নতুন এক পরিচয়ের বার্তা।
বল হাতে হাসান মাহমুদের আগুনে রূপ
ডারউইনের উইকেটের মৃদু বাতাসে বল হাতে রানআপে যখন দাঁড়িয়েছিলেন হাসান মাহমুদ, মুখে ছিল সেই চিরচেনা শান্ত ভাব। কিন্তু বল হাতে ছুটতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো আগুনের স্ফুলিঙ্গ।
প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে একাই তুলে নেন ৬ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩টি নিখুঁত থাবায় পুরো ম্যাচে তাঁর শিকার ৯ উইকেটে ১১১ রান। হাসানের প্রতিটি আউটসুইং আর নিখুঁত নিশানা যেন জানান দিচ্ছিল—‘দিন বদলেছে, এবার ডারউইন আমাদের।’
তাসকিনের ক্লান্তিহীন লড়াই
চোট, হতাশা আর দীর্ঘ রিহ্যাবের কঠিন পথ পেরিয়ে আজকের এই তাসকিন আহমেদ যেন এক অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা। ক্লান্তি ভুলে দীর্ঘ স্পেলে গতির ঝড় তুলে প্রথম ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন আর দ্বিতীয় ইনিংসে মিচেল স্টার্কের মতো ব্যাটারদের সাজঘরের পথ দেখান তিনি। তাসকিন এখন কেবল একজন বোলার নন, এই তরুণ পেস আক্রমণের মানসিক শক্তির মূল স্তম্ভ।
পেস আক্রমণের গভীরতা ও স্বপ্নজয়
দলের এই অভাবনীয় জয়ে সুশৃঙ্খল লাইন-লেংথে চাপ ধরে রেখেছিলেন এবাদত হোসেন। সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয় হলো, বল হাতে ১৫২ কিলোমিটার গতিতে ঝড় তোলা নাহিদ রানা এবং কার্যকর পেসার শরীফুল ইসলাম ইনজুরির কারণে একাদশে ছিলেনই না। তাঁদের ছাড়াও স্বাগতিকদের শক্ত ব্যাটিং লাইনআপকে এভাবে ধসিয়ে দেওয়া প্রমাণ করে টাইগার পেস ইউনিটের গভীরতা কতটা সমৃদ্ধ।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চিত্র
প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৪২৬ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। এরপর পেসারদের তোপে অজিদের প্রথম ইনিংসে ১৯৮ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সফরকারীরা। শেষ ইনিংসে মাত্র ৫৭ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করে ঐতিহাসিক এক জয় নিশ্চিত করে লাল-সবুজের দল।
এক সময় স্রেফ স্পিন ঘূর্ণির ওপর ভর করে টেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ আজ দাপট দেখাচ্ছে পেসের শক্তিতে। হাসান মাহমুদের নেতৃত্ব, তাসকিনের অবিচলতা আর ডাগআউটে নাহিদ-শরীফুলদের উপস্থিতি মিলিয়ে বাংলাদেশের ‘পেস বিপ্লব’ এখন আর ভবিষ্যতের কোনো কল্পনা নয়, এক জীবন্ত বাস্তব। ডারউইনের এই বিজয় জানান দিয়ে গেল—গতির নতুন এই গর্জনই এখন বাংলাদেশের বর্তমান!
আগস্ট ৪, ২০২৬
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৮ অক্টোবর, ২০২৫
নওগাঁ | ২০ জুলাই, ২০২৫
ফরিদপুর | ৩ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয় | ৩ অক্টোবর, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সারাদেশ | ৩ অক্টোবর, ২০২৬
রাঙ্গামাটি | ৩ অক্টোবর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।